ফ্যাক্টচেক জিজ্ঞাসা

ফ্যাক্টচেক সম্পর্কে অনুরোধ করবেন ? অনুরোধ করুন

Q :

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গত বছর দুয়েক ধরে ধাাবাহিকভাবে বলে আসা হচ্ছে, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর কোনো অস্তিত্ব নেই। এর সত্যতা কতটুকু?

A :

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গত বছর দুয়েক ধরে ধাাবাহিকভাবে বলে আসা হচ্ছে, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর কোনো অস্তিত্ব নেই। আরো স্পষ্ট করে বলা হয়, আন্তর্জাতিক কোনো জঙ্গি সংগঠনের অস্তিত্ব বাংলাদেশে নেই। এদেশে জঙ্গি আছে ঠিকই। কিন্তু তারা সবাই স্থানীয় জঙ্গি, তাদের সাথে বিদেশি কোনো জঙ্গি সংগঠন- যেমন আল কায়েদা-আইএস- এদের কোনো সংযোগ নেই। বিগত বছর দুয়েকের মধ্যে যতবারই কোনো হামলা, বা হত্যার ঘটনা ঘটার পর আইএসের পক্ষ থেকে তার দায় স্বীকার করা হয়েছে, ততবারই সরকারের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করে বক্তব্য দেয়া হয়েছে। এখানে আমরা প্রকৃত বাস্তবতাটা (ফ্যাক্ট) কী- তা খুঁজবো। এবং খোঁজ বা অনুসন্ধান হবে প্রামাণ্য উপাত্তের ভিত্তিতে।

Q :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ও নিউজ ২৪এর কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সের প্রধান সামিয়া রহমান এবং ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান কি গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির আশ্রয় নিয়েছেন? প্রমাণসহ জানতে চাই।

A :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমান এবং ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের গবেষণা প্রবন্ধটি ছাপা হয়েছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল সাইয়েন্স রিভউ জার্নালের ৩৩ তম ভলিউমের ২ নম্বর সংখ্যায়। প্রবন্ধটির শিরোনাম হচ্ছে “এ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ-কালচার: এ কেস স্টাডি অব কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম।”  



ছবি: সোশ্যাল সাইয়েন্স রিভিউ, পৃষ্ঠা ৯০।

 

দ্যা ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো প্রেস এই প্রবন্ধটির বিরুদ্ধে অভিযোগে বলেছেন, সামিয়া রহমান ও সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের অধিকাংশ লেখা মূলত প্রকাশিত হয়েছিল ক্রিটিক্যাল ইনকুয়ারি জার্নালের ১৯৮২ সালের ৮ম ভলিউম এর ৪ নম্বর সংখ্যায়। যার আসল লেখক মিশেল ফুকো (Michel Foucault)।



ছবি: ক্রিটিক্যাল ইনকোয়ারি, পৃষ্ঠা ৭৭৭।

 

নিচে কয়েকটি স্ক্রীনশটের মাধ্যমে দেখা যাক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদ্বয় কোথায় কোথায় মিশেল ফুকোর লেখা থেকে কপি করেছেন।

স্ক্রিনশট: সোশ্যাল সাইয়েন্স রিভিউ, পৃষ্ঠা ৯২।

 

স্ক্রিনশট: ক্রিটিকাল ইনকোয়ারি, পৃষ্ঠা ৭৮১।

উপরের দুইটি পৃষ্ঠায় দেখা যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদ্বয় মিশেল ফুকোর লেখা হুবহু কোনো ধরণের তথ্যসূত্র ছাড়াই কপি করেছেন। 

 

 

 

স্ক্রিনশট: সোশ্যাল সাইয়েন্স রিভিউ, পৃষ্ঠা ৯৪।

স্ক্রিনশট: ক্রিটিকাল ইনকোয়ারি, পৃষ্ঠা ৭৮৩।

 

উপরের স্ক্রিনশটেও দেখা যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিয়া রহমান ও সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান ফুকোর লেখা থেকে কোন ধরণের তথ্যসূত্র উল্লেখ ছাড়াই কয়েকটি প্যারা সরাসরি কপি করেছেন। এভাবে নিরীক্ষা করে দেখা যাচ্ছে সোশ্যাল সাইয়েন্স রিভিউতে শিক্ষকদ্বয়ের যে লেখা ছাপা হয়েছে তার ৯২ থেকে ৯৫ পৃষ্ঠা পর্যন্ত সরাসরি অথবা প্যারাফ্রেজিং করে কপি করা হয়েছে।

রেফারেন্স ছাড়া কোনো লেখকের চিন্তুা নিজের মতো করে লিখা অথবা অন্য কোনো লেখকের লেখা থেকে হুবহু তিন শব্দের বেশি কপি করলে তা চৌর্যবৃত্তির আওতায় পড়ে। আর সেখানে সামিয়া রহমান ও সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান মিশেল ফুকোর লেখা থেকে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা কপি করেছেন।