“প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতা’ দেশে একনায়কতান্ত্রিক শাসনের জন্ম দিয়েছে” - বেগম জিয়া

23:05 PM বিএনপি

জাহেদ আরমান

জাহেদ আরমান: গত ১০ মে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ”প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতা’ দেশে  একনায়কতান্ত্রিক শাসনের জন্ম দিয়েছে।” ক্ষমতায় গেলে সংবিধান সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। রাজধানীর একটি হোটেলে তার রূপকল্প ‘ভিশন ২০৩০’ দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার সময় তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের এই বক্তব্য কতটুকু সত্য? তার আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলী সম্পর্কে একটু জেনে নেওয়া যাক।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৫(১) অনুচ্ছেদে লেখা হয়েছে, “প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকিবে।” সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তার কর্তৃত্বে এ সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে।” সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে প্রধানন্ত্রীকে জবাবদিহি করতে হয় সংসদের নিকট, রাষ্ট্রপতির নিকট নয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হওয়াতে যেকোন সিদ্ধান্ত তিনি নিজে নিতে পারেন।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাকে আরো শক্তিশালী করেছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,তাহা হইলে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।” সংসদ সদস্যরা তাদের সদস্যপদ হারানোর ভয়ে নিজ দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট প্রদান করেন না। ফলে প্রধানমন্ত্রী যে কোন সিন্ধান্ত তাঁর একক কর্তৃত্বে নিতে পারেন।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাকে এক প্রস্থ বৃদ্ধি করেছে। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিল পাস হয়। এতে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধান বাদ দিয়ে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনা হয়। প্রধানমন্ত্রী সংসদের নেতা হওয়াতে কার্যত তিনি বিচারকদের অপসারণও করতে পারেন।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনস্থ দপ্তরসমূহ তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন। এগুলো হচ্ছে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ, গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স, উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা সেল (এসআরসিসি), এবং বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (পিইপিজেড)।

প্রধানমন্ত্রী দেশের শাসন পরিচালনা, আইন প্রণয়ন, অর্থব্যবস্থার ওপর তদারকি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সর্বক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন। তিনিই সংসদ নেতা এবং শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। অতএব দেখা যাচ্ছে, ”প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতা’ দেশে  একনায়কতান্ত্রিক শাসনের জন্ম দিয়েছে” বলে বিএনপি চেয়ারপার্সন যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সত্য।



Related Post