বাংলাদেশে কি পেপাল আসছে?

21:10 PM অর্থনীতি

ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদক।।

সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে বেশ সাড়ম্বরে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, দেশে অর্থ স্থানান্তরের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পেপাল সেবা আসছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের কথা ভেবে এখানে পুরোপুরি পেপাল সেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

আগামী ১৯ অক্টোবর এই সেবা চালু হওয়ার কথা। কিন্তু এর আগে প্রশ্ন উঠেছে, পেপাল আদৌ বাংলাদেশে আসছে কি না? এই পরিপ্রেক্ষিতে পেপালের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রিয়.কম। এক ই-ইমেইল বার্তায় পেপাল হেড কমিউনিকেশনস (ইন্ডিয়া) পূজা সাভারওয়াল জানান, বাংলাদেশে পেপাল চালু হওয়ার কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। ভবিষ্যতে চালু হবে কিনা, তাও জানাতে পারেননি তিনি। তবে পেপালের একটি সেবা জুম (Xoom) ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে চালু আছে বলেও জানান তিনি।

পেপাল সেবা বাংলাদেশে চালু করার ব্যাপারে উৎসুক এক ব্যক্তি পেপাল সাপোর্ট টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রশ্ন করেন। এর জবাবে জানানো হয়, ‘PayPal is not currently available in Bangladesh and we don’t have news to share right now regarding future plans. However, Xoom, a PayPal service, has been live in Bangladesh since November 2015.’ (বাংলাদেশে পেপাল এখনো চালু হয়নি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জানাবার মতো কোনো তথ্য এখন আমাদের কাছে নেই। তবে পেপালের জুম সেবা ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে বাংলাদেশে চালু হয়েছে।)

পেপাল সাপোর্ট টুইটার বার্তার স্ক্রিনশট

এই বিতর্কের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ এক ফেসবুক বার্তায় বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ইউএসএ থেকে পেপালের একাউন্টধারী যে কোন ব্যক্তি বাংলাদেশে টাকা পাঠাতে পারবেন। আগামী বছর থেকে এ তালিকায় আরও নতুন নতুন দেশ সংযুক্ত হবে।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের ফেসবুক স্ট্যাটাস।

 

প্রথম আলোকে তিনি পেপালের সম্পূর্ণ সেবা চালুর কথা বললেও ফেসবুক পোস্টে প্রাথমিকভাবে কেবল যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্থ পাঠানোর কথা বলেছেন, যা জুমের মাধ্যমে বাংলাদেশে ইতিমধ্যে চালু আছে। জুম পেপালের একটি সেবা, যা বাংলাদেশে ২০১৫ সাল থেকে চালু রয়েছে।


আর পেপাল সেবা চালু হলে ইউএসএ ছাড়া অন্য দেশ থেকেও পেমেন্ট আনা যায়, যেটি জুমে আনা যায় না। জুম থেকে শুধু ইউএস থেকেই পেমেন্ট আনা যায়।


প্রথম আলোর আরেক প্রতিবেদনে জানা যায়, জুনাইদ আহমেদ বলেছেন, ‘এখন এই সেবার আওতায় আমাদের দেশের ফ্রিল্যান্সাররা কোনো ওয়ালেট (পেপাল হিসাব) খুলতে পারবেন না।’


পেপালে ওয়ালেট থাকায় সেখান থেকে কেনাকাটা করার সুযোগও থাকে। যেটি জুমে নেই। অনলাইনে যারা কাজ করেন বা যারা উদ্যোক্তা তাদের প্রতিনিয়ত নানান টুলস আর সার্ভিস কিনতে হয়। সেগুলোর জন্য পে করতে হয়। পেপাল সেটাকে অনেক সহজ করে দিতো।


সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের পেপাল সেবা উদ্বোধন সংক্রান্ত আমন্ত্রণপত্রে লেখা হয়েছে, ‘Xoom (a PayPal Service) Launching and Freelancer Conference’ হবে ১৯ অক্টোবর।

পেপাল উদ্বোধন উপলক্ষে সরকারের আমন্ত্রণপত্র।

 নিজের ফেসবুক পোস্টে প্রতিমন্ত্রী্ জুমকে পেপালের সহ সেবা হিসেবে পরিচিত করিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘১৯ অক্টোবর আমরা পেপ্যালের জুম সার্ভিস উদ্বোধন করার মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিজিটাল ট্রানজেকশনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। এতে করে দেশের বাইরের পেপ্যাল একাউন্টধারী সহজেই তার একাউন্ট থেকে সরাসরি বাংলাদেশী জুম গ্রাহকের একাউন্টে অর্থ পাঠাতে পারবেন(ইনবাউন্ড)।

 

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রি জুনায়েদ আহমেদ পলকের ফেসবুক স্ট্যাটাস।

কিন্তু পেপাল কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে জুম সেবা বাংলাদেশে আছে। আর ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন বলছে, ২০০৩ সালে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে জুম। তখন স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ইনস্টান্ট ক্যাশের সঙ্গে মিলে ব্যবসা শুরু করে তারা। কিন্তু ব্যবসায় প্রবৃদ্ধির গতি কম হওয়ায় ২০০৮ সালের জুলাইতে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মরক্কো এবং নেপাল থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। পেপালের সঙ্গে মিলে যা্ওয়ার পর ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশে পুনরায় যাত্রা শুরু করে জুম। সেটা আবার নতুন করে উদ্বোধন করতে হবে কেন? নতুন মোড়কে পুরোনো সেবাকে হাজির করে কী লাভ?

 

Related Post