রোহিঙ্গা ইস্যুতে কি ভারতের পূর্বের অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে?

04:10 AM আন্তর্জাতিক

জাহেদ আরমান

বাংলাদেশের গণমাধ্যমে চাউর হয়েছে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে বলেছেন, “বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া সব রোহিঙ্গাকে অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে হবে।” গণমাধ্যমে আরও বলা হচ্ছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের আগের অবস্থানের পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু বিডি ফ্যাক্ট চেকের অনুসন্ধানে তার সত্যতা পাওয়া যায় নি।

দৈনিক ইত্তেফাক  “রোহিঙ্গাদের অবশ্যই ফেরত নিতে হবে: শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে সুষমা স্বরাজ” শিরোনামে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে উদ্ধৃত করে বলেছে, “রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবশ্যই মিয়ানমারকে ফেরত নিতে হবে। এটা বাংলাদেশের জন্য বোঝা। বাংলাদেশ এই বোঝা কতদিন বইবে? এর একটি স্থায়ী সমাধান হওয়া উচিত।” এই সংবাদটি তারা প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এর সূত্রে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সুষমা স্বরাজের বৈঠক


দৈনিক ভোরের কাগজ “সুষমা স্বরাজ: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশিত” শিরোনামে বলেছে, “বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া সব রোহিঙ্গাকে অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে হবে। বলেছেন বাংলাদেশ সফরে আসা ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমেই কেবল সেখানে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে বলে ভারতের নীতিগত অবস্থানও ব্যক্ত করেছেন তিনি।”

এর আগে ডয়েচে-ভ্যালে রেডিও বলেছিলো, “রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেবার জন্য দিল্লি ও ঢাকা দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক স্তরে মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করবে৷ এ বিষয়ে দিল্লি ও ঢাকার পথ অভিন্ন৷”

এরই সূত্র ধরে বিডি ফ্যাক্ট চেক রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের নীতিগত অবস্থান কী তা জানার চেষ্টা করে। প্রসঙ্গত গত ২৫ অাগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করে নাই ভারত। তারা সেখানে অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উপর জোর দেয়। কারণ প্রায় ৫০ কোটি ডলার খরচ করে এই রাখাইন দিয়েই ভারত বানাচ্ছে ‘কালাদান মাল্টি-মোডাল ট্রান্সপোর্ট প্রোজেক্ট,’ যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল আর বঙ্গোপসাগরের মধ্যে সরাসরি সংযোগ গড়ে তুলবে।

১১ সেপটেম্বর ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা কালের কণ্ঠকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে এমন যেকোনো উদ্যোগকে আমরা সমর্থন করি।”

২২ অক্টোবর ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বাংলাদেশে সফরে দেওয়া প্রেস স্টেটমেন্টে বলা হয়, “In our view, the only long term solution to the situation in Rakhine State is rapid socio-economic and infrastructure development that would have a positive impact on all the communities living in the State.”

[পুরো প্রেস স্টেটমেন্টটি পড়ুন]

পুরো প্রেস স্টেটমেন্টের কোথাও তারা বলেনি যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া উচিত মিয়ানমারের। এখানে তারা “socio-economic and infrastructure development” শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছে। যার বাংলা অর্থ দাড়াঁয় আথ-সামাজিক এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন। তার মানে হচ্ছে রোহিঙ্গা ইস্যুকে ভারতের পূর্বের অবস্থান একটুও পরিবর্তন হয়নি। তারা যে কোনো মূল্যে রাখাইন রাজ্যে স্থিতিশীলতা চায়। অর্থাৎ রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাদের পূর্বের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। 

Related Post