Donate

পাবলিক ফিগার

আংশিক সত্য

পাবলিক ফিগার

April 29, 2020, 10:03 pm

Updated: April 29, 2020, 11:49 pm

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কি র‌্যাপিড টেস্টিং কিটের ব্যবহার সমর্থন করে না?

Author: BD FactCheck Published: April 29, 2020, 10:03 pm | Updated: April 29, 2020, 11:49 pm

২৭ এপ্রিল মানবজমিন পত্রিকার একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিলো, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা র‌্যাপিড কিট সমর্থন করে না : ওষুধ প্রশাসন ডিজি”

খবরটিতে বলা হয়েছে–

“ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন পর্যন্ত করোনা পরীক্ষায় র‌্যাপিড কিট প্রয়োগ সমর্থন করেনি। তাই বাংলাদেশেও এখনও এ ধরণের কিট নিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে না। আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।”

ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালকের একই রকম বক্তব্য বিবিসি বাংলায় ও প্রকাশিত হয়েছে।

কিন্তু “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন পর্যন্ত করোনা পরীক্ষায় র‌্যাপিড কিট প্রয়োগ সমর্থন করেনি” বলে ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক যেভাবে বিষয়টিকে সরাসরি নাকচ করেছেন আসলেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অবস্থান তা-ই?

ফ্যাক্ট চেক:

গত ২৪ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের সর্বশেষ Scientific Brief প্রকাশ করেছে। “Immunity passports” in the context of COVID-19 শিরোনামের এই ব্রিফিংয়ে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় র‌্যাপিড টেস্টিং কিট এর ব্যবহারের নিজেদের নীতির বিষয়ে বিস্তারিত বলেছে সংস্থাটি।

ব্রিফিং থেকে জানা যাচ্ছে, র‌্যাপিড টেস্টিং কিট ব্যবহারের বিষয়টি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সমর্থন করে। কেন সমর্থন করে তার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে–

“Many countries are now testing for SARS-CoV-2 antibodies at the population level or in specific groups, such as health workers, close contacts of known cases, or within households. WHO supports these studies, as they are critical for understanding the extent of – and risk factors associated with – infection. These studies will provide data on the percentage of people with detectable COVID-19 antibodies, but most are not designed to determine whether those people are immune to secondary infections.”

অর্থাৎ, কোনো জনগোষ্ঠি বা বিশেষ গ্রুপ যেমন স্বাস্থ্যকর্মীদের বা সাধারণ মানুষ নিজেদের ঘরে ঘরে (র‌্যাপিড টেস্টিং কিট এর মাধ্যমে) অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করার বিষয়টি এইচওডব্লিও সমর্থন করে। কারণ এর মাধ্যমে ভাইরাসটি কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় কী মাত্রায় ছড়িয়েছে, এবং তাতে যেসব ঝুঁকি রয়েছে সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

কিন্তু একই সাথে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, র‌্যাপিড টেস্টিং কিট এর মাধ্যমে আসা ফলাফলের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করার সুযোগ নেই। কারণ অনেক সময় এই পরীক্ষায় ভুল ফলাফল আসার সুযোগ রয়েছে। আক্রান্তকে অনাক্রান্ত এবং অনাক্রন্তকে আক্রান্ত হিসেবে ফলাফলে দেখানোর শঙ্কা আছে এই কিট দিয়ে পরীক্ষার ফলে।

এছাড়া অনেক সময় কোনো ব্যক্তি নিকট অতীতে কভিড-১৯ ছাড়া করোনাভাইরাস গোত্রীয় অন্য ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার কারণেও তার শরীরে এন্টিবডি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। র‌্যাপিড টেস্টিং কিট আলাদা করে শনাক্ত করতে পারে না যে, ওই অ্যান্টিবডি কভিড-১৯ এর প্রতিরোধের জন্য শরীরে তৈরি হয়েছে নাকি অন্য কোনো করোনাভাইরাসে আক্রমণে ফলে তৈরি হয়েছে। এতে অনেক সময় কভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তিকে (শরীরে অ্যান্টিবডির উপস্থিতির কারণে) ভুলভাবে অনাক্রান্ত হিসেবে চিহৃিত করার সুযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো–

“Laboratory tests that detect antibodies to SARS-CoV-2 in people, including rapid immunodiagnostic tests, need further validation to determine their accuracy and reliability. Inaccurate immunodiagnostic tests may falsely categorize people in two ways. The first is that they may falsely label people who have been infected as negative, and the second is that people who have not been infected are falsely labelled as positive. Both errors have serious consequences and will affect control efforts. These tests also need to accurately distinguish between past infections from SARS-CoV-2 and those caused by the known set of six human coronaviruses. Four of these viruses cause the common cold and circulate widely. The remaining two are the viruses that cause Middle East Respiratory Syndrome and Severe Acute Respiratory Syndrome. People infected by any one of these viruses may produce antibodies that cross-react with antibodies produced in response to infection with SARS-CoV-2.”

সারকথা হলো, করোনাভাইরাস শনাক্তে র‌্যাপিড টেস্টিং কিট ব্যবহার করাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সমর্থন করে না বলে সরাসরি যে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক তা সঠিক নয়। বরং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা র‌্যাপিড টেস্টিং কিটের ব্যবহার সমর্থন করে বলে স্পষ্ট জানিয়েছে। কিন্তু একই সাথে এটির ব্যবহারে যে ভুল ফলাফল আসার শঙ্কা রয়েছে সে বিষয়টিও স্বরণ করিয়ে দিয়েছে সংস্থাটি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *