BSS এর প্রতিবেদনের ৩ দিন পর জরিপ রিপোর্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে IRI

04:09 AM গণমাধ্যম

ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা BSS (বাসস) -এর বরাতে ঢাকার সংবাদমাধ্যমে গত ৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা International Republican Institute (IRI) যে অপ্রকাশিত জরিপের খবর প্রকাশিত হয়েছিল সেটি অবশেষে IRI তাদের ওয়েবসাইটে আপলোড করেছে।

বাসসে ৩ সেপ্টেম্বর সংবাদ পরিবেশনের ৩ দিন পর বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাতে জরিপের বিস্তারিত আপলোড করে IRI।

৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে খবরটি ব্যাপকভাবে (বাসসের বরাতে) প্রচারের পর bdfactcheck এর পক্ষ থেকে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় IRI এর ওয়েবসাইটে সংশ্লিষ্ট জরিপের কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে জানতে আমরা সংস্থাটির সাথে ইমেইলে যোগাযোগ করি।

২ দিন পর বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ৩টা ২৩ মিনিটে IRI এর প্রেস সেক্রেটারি Julia Sibley ফিরতি ইমেইলে তাদের ওয়েবসাইটে আপলোড করা জরিপটির একটি লিংক পাঠান। যদিও নিজেদের জরিপের খবর জরিপের উদ্দিষ্ট একটি পক্ষের (বাংলাদেশ সরকার) নিয়ন্ত্রণাধীন সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে কেন আগে প্রকাশ করা হলো এবং এর মাধ্যমে জরিপের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয় কিনা সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

ইমেইলের স্ক্রিনশট--

IRI এর ওয়েবসাইটে জরিপের বিস্তারিতু দেখুন--  এখানে। স্ক্রিনশটে দেখুন নিচে--

----------------------------------------------------------------------

এ বিষয়ে bdfactcheck.com আগের প্রতিবেদনটি এখানে হুবহু তুলে দেয়া হল--

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি: BSS-এর প্রকাশিত জরিপ IRI-এর ওয়েবসাইটে নেই

ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা BSS (বাসস) -এর বরাতে মূলধারার সব সংবাদমাধ্যমে একটি সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে গবেষণা সংস্থা আইআরআই এর জরিপ সংক্রান্ত। “শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে : আইআরআই জরিপের ফলাফল” শিরোনামে BSS-এর রিপোর্টটি পড়ুন নিচের দুই স্ক্রিনশটে--



এই সংবাদটিই প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, বাংলাট্রিবিউনসহ সব সংবাদমাধ্যমে BSS-এর বরাতেই প্রকাশ করা হয়েছে (কেউই আইআরআই এর ওয়েবসাইট দেখে সেখানে কী আছে তা জানায়নি)। দেখুন নিচের স্ক্রিনশটে--




গতকাল (৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত BSS-এর রিপোর্টের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরছি--

#বলা হয়েছে, “আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইনসাইট অ্যান্ড সার্ভের এক গবেষণা প্রতিবেদনে ৩০ আগস্ট এ তথ্য জানানো হয়েছে।”

‘সেন্টার ফর ইনসাইট অ্যান্ড সার্ভে’ এর নামটি ভুলভাবে রিপোর্টে এসেছে। এছাড়া International Republican Institute’s (IRI) -এর Center for Insights in Survey Research আলাদা কোনো গবেষণা সংস্থা নয়। এটি আইআরআই’র এর জরিপ সংক্রান্ত বিভাগ।

#বাসসের রিপোর্টে বলা হয়েছে- “জরিপের প্রতিবেদনের একটি কপি আজ বাসস পেয়েছে।” তবে কোন সূত্র থেকে পেয়েছে তার উল্লেখ নেই।

#আরও জানানো হয়েছে- “চলতি বছরের এপ্রিলের ১০ তারিখ থেকে ২১ মে পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান চালানো হয়।”

#বাসসের ইংলিশ ভার্সনের রিপোর্টে বলা হয়েছে জরিপটির শিরোনাম ছিল “National Survey of Bangladesh Public Opinion”.

এদিকে bdfactcheck.com পক্ষ থেকে আজ ৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার আইআরআই’র ওয়েবসাইটে খোঁজে গত ৩০ আগস্ট বা তার নিকটবর্তী আগে বা পরের কোনো তারিখে প্রকাশিত বাংলাদেশ সংক্রান্ত কোনো জরিপ বা গবেষণা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

IRI এর ওয়েবসাইটে News & Resource Center-এ Country ভিত্তিক প্রকাশিত জরিপ ও গবেষণা রিপোর্টের যে তালিকা রয়েছে তাতে Bangladesh অংশে সর্বশেষ গবেষণা রিপোর্টটি চলতি বছরের এপ্রিল মাসের। শিরোনাম New Research: Economic Anxieties and Corruption Pose Daily Challenge to Bangladeshis

তার আগের রিপোর্টটি ছিল জরিপ। New Poll: Bangladeshis Optimistic for the Future; Support More Inclusive Government শিরোনামের এই রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ ৩০ আগস্ট ২০১৭। 


আইআরআই’র ওয়েবসাইটে Country ভিত্তিক জরিপ ও গবেষণা রিপোর্টের তালিকায় Bangladesh অংশে সর্বশেষ রিপোর্টগুলো দেখতে পারেন এই লিংকে গিয়ে।

দেখুন স্ক্রিনশট--

এছাড়া www.iri.org/country/bangladesh এই লিংকে ক্লিক করলেও যেসব জরিপ ও গবেষণা রিপোর্ট আসে তাতেও বাসসের উল্লিখিত জরিপটি নেই। দেখুন স্ক্রিনশটে--



আর “National Survey of Bangladesh Public Opinion” শিরোনামে একটি গবেষণা রিপোর্ট আছে যেটি প্রকাশের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১৭।

লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, বাসসের রিপোর্টে বলা হয়েছে- “জরিপের প্রতিবেদনের একটি কপি আজ (৩ সেপ্টেম্বর) বাসস পেয়েছে।” এখানে স্পষ্ট নয় বাসস ‘কপি’টি কিভাবে বা কোথায় পেয়েছে। এবং জরিপকারীদের সম্মতিতে ‘কপি’টি পেয়েছে, নাকি বিনা সম্মতিতে গোপনে সংগ্রহ করেছে।

কোনো জরিপকারী প্রতিষ্ঠান নিজেদের পরিচালিত জরিপ নিজেদের কোনো স্বীকৃত মিডিয়ামে (সংবাদ সম্মেলন, নিজেদের ওয়েবসাইট, সংবাদমাধ্যমে প্রেস বিজ্ঞপ্তি ইত্যাদি আকারে) প্রথমে প্রকাশ না করে গোপেনে অন্য কাউকে ‘একটি কপি’ দিয়ে তা প্রকাশের সুযোগ দেয়া- এমনটি স্বাভাবিক অনুশীলন নয়। এতে জরিপকারীদের সুনাম ক্ষুন্ন হওয়া এবং জরিপের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার শঙ্কা থাকে।

একইভাবে যদি বাসস (বাসস জরিপের ইতিবাচক ফলাফল ভোগকারী পক্ষ বাংলাদেশ সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা) গোপনে জরিপের প্রতিবেদনের কপি সংগ্রহ করে সেটি প্রকাশ করে থাকে তাহলেও এতে জরিপকারীদের সুনাম ক্ষুন্ন হয় এবং জরিপের ইতিবাচক ফলাফল ভোগকারীদের হস্তক্ষেপের কারণে জরিপের গোপনীয়তা, নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

bdfactcheck.com এর পক্ষ থেকে আইএরআই’র কাছে জরিপটি সম্পর্কে জানতে চেয়ে ইমেইল করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত কোনো আপডেট পেলে আমরা আমাদের পাঠকদের জানাবো।

Related Post