“শেখ হাসিনা নিকৃষ্ট স্বৈরশাসক” - খবরটি বিভ্রান্তিকর

20:09 PM আওয়ামী লীগ

ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদক।

নিউইয়র্ক ভিত্তিক সংস্থা “উই আর দ্যা পিপল”-এর উদ্যোগে পরিচালিত তিন সদস্যের একটি প্যানেল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত একশ বছরে নিকৃষ্ট স্বৈরশাসকদের তালিকায় প্রথম করেছে। বিডিফ্যাক্টচেক অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে খবরটি বিভ্রান্তিকর।

গত ৩০ মে ২০১৮ তারিখে নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা “উই আর দ্যা পিপল” নিকৃষ্ট স্বৈরশাসকদের মধ্যে পাঁচজনের নামের তালিকা প্রকাশ করে। এরা হচ্ছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, লাইবেরিয়ার রাষ্ট্রপতি স্যামুয়েল ডু, ডমিনিকান রিপাবলিকানের রাষ্ট্রপ্রধান রাফায়েল ত্রোহিযো, ফিলিপিনের জোসেফ এস্ত্রাদা, এবং দক্ষিণ ভিয়েতনাম বিমান বাহিনীর সাবেক মেজর জেনারেল উয়েন কাউ কে। পুরো সংবাদটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন-ফাইভ ওরস্ট ডিক্টেটরস ইন দ্যা লাস্ট ১০০ ইয়ার্স ডিক্লার্ড বাই ডব্লিউআরটিপি

 কারা এই “উই আর দ্যা পিপল”?

উই আর দ্যা পিপল” সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালে। এর চেয়ারম্যান এবং প্রকাশক যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ী জ্যাকব মিলটন। ডেপুটি প্রকাশক নিরু এস. নিরু। সংস্থাটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছে কার্যনির্বাহী সম্পাদক কাজি শামসুল হক, সহযোগী সম্পাদক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন, এবং সহকারী সম্পাদক প্রাইমা রাব্বানি। ওয়েবসাইটটির আধেয় বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ মেন্যুতে যেসব সংবাদ আছে তার অধিকাংশই প্রপাগান্ডামুলক।

তিনজনের প্যানেল!

“উই আর দ্যা পিপল” সংস্থাটির ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, এক বছর আগে গত একশ বছরের সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্বৈরশাসক বাছাই করার জন্য সংস্থাটি তিন সদস্যের একটি প্যানেল গঠন করে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্যমতে, “প্যনেল চেয়ারম্যান হচ্ছে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রফেসর ড. জিলানী ওয়ারসি; এবং অন্য দুই সদস্য হচ্ছেন মিস্টার জন পি. ডেমাইয়ো ও ডেভিজ কর্নগোল্ড।“  বিডি ফ্যাক্ট চেক-র অনুসন্ধানে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. জিলানী ওয়ারসি নামক কোনো প্রফেসরের অস্তিত্ত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। অন্য যে দুইজন সদস্যের তথ্য ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছে তাদের নামের সাথে কর্মক্ষেত্রের সাদ্শ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বাছাই করার পদ্ধতি কি?

সমাজ ও রাজনীতি বিষয়ক গবেষণায় কোনো সিদ্ধান্তে পৌছার জন্য সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়। সাধারণত কোনো বিষয়ের জনপ্রিয়তা যাচাই কিংবা মাপকাঠি নির্ণয়ের জন্য জরিপ হচ্ছে সর্বাধিক ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি। কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে তিনজনের একটি প্যানেল কোন ধরণের গবেষণা পদ্ধতি অবলম্বন না করে শুধু নিজেদের মধ্যে আলাপের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিয়ে দিল, “শেখ হাসিনা নিকৃষ্ট স্বৈরশাসক”। তাই তাদের বাছাই করার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

মূলধারার গণমাধ্যমে প্রতিবেদনটি আসেনি।

“গত ১০০বছরের নিকৃষ্ট পাঁচ স্বৈরশাসক” শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে “উই আর দ্যা পিপল”। এখান থেকে প্রতিবেদনটি হুবহু কপি করেছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক ইন্ডিয়ান আমেরিকানদের কমিউনিটিভিত্তিক একটি সংবাদপত্র দ্যা ইন্ডিয়ান প্যানোরামা

স্ক্রিনশট: দ্যা ইন্ডিয়ান প্যানোরামা।

এর বাইরে মুলধারার সংবাদপত্রে এটি প্রকাশিত হয় নি। কিন্তু সামাজিক গণমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবেদনটি সহস্রাধিক শেয়ার হচ্ছে।

আমাদের সিদ্ধান্ত:

“উই আর দ্যা পিপল”-এর “গত একশ বছরের নিকৃষ্ট পাঁচ স্বৈরশাসক” শীর্ষক প্রতিবেদনটি বিভ্রান্তিকর এবং প্রপাগান্ডামুলক।

Related Post