পুতিন কি খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন?

00:10 AM বিএনপি

জাহেদ আরমান

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বলে বিভিন্ন অনলাইন সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে। নিউজ টিভি  নামক একটি ইউটিউব চ্যানেল থেকেও এই দাবি করা হয়েছে। বিডি ফ্যাক্ট চেক-এর অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে সংবাদটি সত্য নয়।

পত্রিকা ডটকম গত ৪ মে “খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে পুতিনের চিঠি” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে। এতে বলা হয়,  

“বিএনপির কারাবন্দী চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে এবং তার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে দলীয় কার্যালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বিকাশের স্বার্থে বিরোধী দলীয় নেত্রীকে হয়রানিমূলক দণ্ড থেকে রেহাই পাওয়া আবশ্যক।

শুক্রবার সকালে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তার এই চিঠি পৌঁছায়। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

‌বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়ার প্রতি যা করা হয়েছে আর প্রলম্বিত না করে তাকে অচিরে মুক্তি দিয়ে আমেজপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিৎ বলেও পুদিন ওই চিঠিতে লিখেছেন বলে জানান রিজভী।”

সংবাদটি এখান থেকে হুবহু কপি করে কালেকটেড নিউজ ডটকম এবং বিএনপিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নামের অনলাইন সংবাদ মাধ্যম। এছাড়া সংবাদটি নিউজ টিভি এবং এ টিভি নামক দুটি ইউটিউব চ্যানেল থেকেও প্রচার করা হয়। সেখান থেকে সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

এবার দেখা যাক সংবাদটি কেন অসত্য।

মুলধারার সংবাদ মাধ্যমে সংবাদটি আসেনি:

“খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে পুতিনের চিঠি” শীর্ষক সংবাদটি বাংলাদেশের মুলধারার কোনো সংবাদ মাধ্যমে আসেনি। সংবাদটি সত্যি হলে বিএনপি থেকে ফলাও করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অথবা প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানানো হতো। যেহেতু এরকম কিছু হয়নি তাই এই সংবাদটি সত্যি নয়।

নিউজ টিভি ও এ টিভি কোন ধরণের চ্যানেল:

সংবাদটি এসেছে ইউটিউব ভিত্তিক দুটি চ্যানেল নিউজ টিভি এবং এটিভিতে। এই নামে বাংলাদেশে নিবন্ধিত কোনো টেলিভিশন চ্যানেল নাই। আর ইউটিউবে যে কেউ এই ধরণের চ্যানেল খুলে প্রচারণা চালাতে পারে। তাই যে কোনো ইউটিউব চ্যানেলকে সত্যিকারের টেলিভিশন মনে করাটা সঠিক নয়।

সংবাদ সূত্র

পত্রিকা ডটকম, বিএনপি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, এবং কালেকটেড নিউজ ডটকম-এ সংবাদের সূত্র হিসেবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কথা বলা হয়েছে। বিডি ফ্যাক্টচেক-এর পক্ষ থেকে রিজভীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই ধরণের সংবাদের সত্যতা নাকচ করে দেন।

অনলাইন পত্রিকার মালিক-সম্পাদক ও ঠিকানা

কোনো প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই করার জন্য সে প্রতিবেদনের লেখক, সংশ্লিষ্ট পত্রিকার মালিক ও সম্পাদক এবং পত্রিকাটি কোন জায়গা থেকে প্রকাশিত হয় তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পত্রিকা ডটকম, বিএনপি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, এবং কালেকটেড নিউজ ডটকম-এর ওয়েবসাইট ঘেটে “খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে পুতিনের চিঠি” শীর্ষক সংবাদে কোনো প্রতিবেদকের নাম পাওয়া যায়নি। এছাড়া ওয়েবসাইটে অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর কোনো মালিক-সম্পাদক ও ঠিকানা উল্লেখ করা নাই। এখান থেকেও সিদ্ধান্তে আসা যায়, এই সংবাদ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।

অতএর দেখা যাচ্ছে, “খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে পুতিনের চিঠি” শীর্ষক সংবাদটি সত্য নয়। 

Related Post