তারেক রহমানকে নিয়ে আবারও ভুয়া সংবাদ

18 November, 2018 03:11 AM বিএনপি

জাহেদ আরমান:

তারেক রহমানকে নিয়ে অাবারও ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করেছে কিছু অনলাইন গণমাধ্যম। এবারের শিরোনাম, “ব্রেকিং: ভয়ংকর পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে তারেক রহমান: এফবিআই।” আর এখান থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার হচ্ছে এই সংবাদ।

ঢাকা রিপোর্ট নামক একটি অনলাইন ওয়েবসাইট এই সংবাদটি প্রথম প্রকাশ করেছে। সংবাদ মাধ্যমটির ইউআরএল হচ্ছে, http://news.dhakareport.com.bd/। এখানে উল্লেখ্য যে, সংবাদ মাধ্যমটির ডোমেইনে “ডটকমডটবিডি” ব্যবহার করেছে। সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার লিংকন মাহমুদের মতে, “ডটকমডটবিডি” ডোমেইন নাম বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ সংস্থা- বিটিসিএল-এর অনুমোদন ছাড়া পাওয়া সম্ভব নয়।

সংবাদটিতে বলা হয়,

তারেক জিয়া সম্পর্কে যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। যুক্তরাজ্যের কাছে পাঠানো এক গোপন বার্তায় তারেক জিয়াকে উগ্রবাদী জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষক এবং মদদদাতা হিসেবে চিহ্নিত করে, তাঁকে সর্বোচ্চ নজরদারিতে রাখার পরামর্শ দিয়েছে। এফবিআই বলেছে, ‘এই ব্যক্তিটি যুক্তরাজ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।’

ওই সংবাদে আরও বলা হয়,

এফবিআই তার সতর্কবার্তায় তারেক জিয়াকে ‘পলিটিক্যাল টেররিস্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে ‘রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এই ব্যক্তি বল প্রয়োগেই বিশ্বাস করে।’ এফবিআই পূর্বাভাস দিয়েছে, ‘তারেক জিয়া আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাংলাদেশে বড় ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটানোর জন্য পরিকল্পনা করেছে।’ এই পরিকল্পনার কিছু নমুনা এফবিআই যুক্তরাজ্যকে দিয়েছে।

এখন দেখা যাক সংবাদটি কেন ভুয়া:

ইউআরএল বিশ্বাসযোগ্য নয়। বাংলাদেশে দ্যা ঢাকা রিপোর্ট নামে একটি অনলাইন ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আছে। এর ইউআরএল হচ্ছে http://www.thedhakareport.com/। আর তারেক রহমান নিয়ে ভুয়া সংবাদটি যেখানে প্রকাশ করা হয়েছে সেটার নাম হচ্ছে ঢাকা রিপোট এবং ইউআরএল হচ্ছে, http://news.dhakareport.com.bd/ । নাম এবং লগোতে সামান্য পার্থক্য থাকলেও সাধারণত একই নামে একই জায়গায় দুইটি সংবাদ মাধ্যম দেখা যায় না।  

প্রকাশক সম্পাদকের নাম নেই। ঢাকা রিপোর্ট সংবাদ মাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশক ও সম্পাদকের নাম নেই এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্যও কোনো অপশন রাখা হয়নি। এখান থেকেই বোঝা যাচ্ছে, সংবাদ মাধ্যমটির সংবাদ বিশ্বাসযোগ্য নয়।

সূত্র বিশ্বাসযোগ্য নয়। এই সংবাদে সূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর নাম। কিন্তু এফবিঅাই-এর কোন কমকর্তার কাছ থেকে কীভাবে তথ্যটি ফাসঁ হয়েছে সে সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সংবাদের নিচে আরও একটি সূ্ত্র ব্যবহার করেছে, “বাংলাদেশ প্রেস।” পাঠক মাত্রই জানেন, “বাংলাদেশ প্রেস” বলতে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত সব সংবাদপত্রকেই বোঝায়। অতএব সংবাদসূত্র হিসেবে এফবিআই এবং বাংলাদেশ প্রেস যথেষ্ঠ অস্পষ্ট।

এফবিআই-এর বার্তা প্রকাশ করা হয়না। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এর গোপন বার্তা সাধারণত প্রকাশ করা হয়না। অতীতে যেসব প্রকাশ পেয়েছিল সেগুলো উইকিলিকস এর মাধ্যমে। এইজন্য উইকিলিকস এর প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ এবং ওয়েবসাইটটির বিররুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলাও হয়েছে।

মূলধারার সংবাদ মাধ্যমে সংবাদটি আসেনি। এফবিআই তারেক রহমানকে নিয়ে কিছু বললে তা অবশ্যই বাংলাদেশের মূলধারার গণম্যাধমগুলো কাভার করতো। কারণ, এফবিআই এবং তারেক রহমান সংক্রান্ত সংবাদমূল্য আছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের কোনো মূলধারার গণমাধ্যমে এই সংবাদটি আসে নাই।

সার্বিক বিচারে “ব্রেকিং: ভয়ংকর পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে তারেক রহমান: এফবিআই” শিরোনামের সংবাদটি সত্য নয়। 

Related Post