ইভিএমে কারচুপি সম্ভব, না অসম্ভব?

22 November, 2018 16:11 PM সংস্থা/প্রতিষ্ঠান

ইয়াসির আরাফাত:

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডিজিটাল ভোটগ্রহণ পদ্ধতি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএমের ব্যবহার নিয়ে পক্ষেবিপক্ষে নানারকম আলোচনা চলছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো মনে করে এই মেশিনের মাধ্যমে ভোট কারচুপি সম্ভব। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করছে, ইভিএমে কারচুপির সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশনও ক্ষমতাসীন দলের বক্তব্যের সাথে একমত হয়ে বারবার বলছে, ইভিএমে কারচুপির কোন সুযোগ নেই।

গত ৬ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেন,‘ভোটারদের ভোটের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার জন্য ইভিএমের বিকল্প নেই। ব্যালট পেপারে নানা অসুবিধা রয়েছে। সেগুলো এড়িয়ে চলার জন্য ইভিএম চালু করা হবে। ইভিএমে ভোট কারচুপি করার সুযোগ নেই।’

সর্বশেষ গত ১২ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের আয়োজনে ইভিএম প্রদর্শনীতে সিইসি জানালেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমিত পরিসরে ইভিএমে ভোট নেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন গত ৫ মে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে বৈঠককালে ইভিএমে কারচুপির কোন সুযোগ নেই বলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন।

ঐক্যফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘কমিশনের ওপর যদি মানুষের আস্থা না থাকে আপনাদের রাজনৈতিক দলের ওপরও কিন্তু মানুষের আস্থা নেই। আপনারা শুধু শুধু ইভিএমের ব্যবহারবিধি না জেনে এসব কথা বলছেন। প্রয়োজনে আপনারা টেকনিক্যাল টিম নিয়ে এসে যাচাই করেন। আমি আপনাদেরকে চ্যালেঞ্জ করছি ইভিএমে কারচুপি করার সুযোগ নেই। রাজনৈতিকভাবে না দেখে যদি আপনারা ভেবে দেখার চেষ্টা করতেন তবে আওয়ামী লীগ নয়, আপনারাই আগে এটা ব্যবহার করতে উৎসাহিত হতেন।’

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনু বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম গত ২৭ অক্টোবর এক অনুষ্ঠানে বলেন,‘জাতীয় সংসদ কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইলেক্ট্রোনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার করা হলে ভোট কারচুপির কোনও সুযোগ নেই।’

ইভিএম প্রজেক্টে জড়িত একজন বিশেষজ্ঞও বলছেন, ইভিএমে কারচুপির কোনো সুযোগ নেই। গত আগস্ট মাসে দৈনিক কালের কণ্ঠকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং নির্বাচন কমিশনের কারিগরি কমিটির সদস্য ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) সম্পর্কে বলেছেন, ‘এতে ভোট কারচুপির কোনো সুযোগ নেই। কারচুপির সব দিক বন্ধ করেই এটি তৈরি করা হয়েছে।’

ড. মাহফুজুল বলেন, ‘ইভিএমে ভোট কারচুপির কোনো আশঙ্কা নেই। ভোটারের ফিঙ্গারপ্রিন্ট না দিলে ব্যালট আসবে না। কাজেই অন্য কেউ ভোটও দিতে পারবে না। ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিলেই ভোটারের নাম, বয়স ও ঠিকানাসহ যাবতীয় তথ্য প্রদর্শিত হবে। এর পরই ব্যালটপেপার আসবে। তখন ভোটার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। কাজেই একজন ভোটারের ভোট অন্য কেউ দিতে পারবেন না।’

এভাবে আরও বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন কমিশন এবং একাদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে ইভিএম মেশিন তৈরির প্রকল্পে জড়িত অনেকে বারবার কারচুপি না হওয়ার ‘নিশ্চয়তা’ দিয়েছেন ও ‘চ্যালেঞ্জ’ জানিয়েছেন।

কিন্তু বাস্তবে তাদের এমন বক্তব্য আসলে কতটা সঠিক? ‘ইভিএমে কারচুপির সুযোগ নেই’- কমিশনের এমন বক্তব্যে ভোটারদের নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ আছে কি? ইচ্ছা করে ভোটের সময় অসাধু লোক কর্তৃক ইভিএম নিয়ন্ত্রণ করে ভোট গণনায় গরমিল করা বা কারিগরি সমস্যায় গরমিল হওয়ার সুযোগ কি নেই? বিশ্বের অন্যান্য দেশে, এমনকি ‘প্রযুক্তিতে বিশ্বনেতা’ বলে পরিচিত দেশগুলোতে ইভিএম ব্যবহারের অভিজ্ঞতা কী বলে?

যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনে ইভিএম বিড়ম্বনা:

গত ৫ নভেম্বর হয়ে গেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। তাতে ইলেক্ট্রোনিক ভোটিং মেশিন নিয়ে বেশ বড় ধরনের বিড়ম্বনা তৈরি হয়। শেষমেষ বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গিন্নেট নামক এলাকার একটি ভোটকেন্দ্রে হঠাৎ কয়েকটি ভোটিং মেশিনে সমস্যা দেখা দিলে ভোটাররা বিরক্ত হয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে সেখানকার প্রিসাইডিং অফিসার পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এছাড়াও ইন্ডিয়ানা, মিসিসিপি, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া, টেক্সাস, অ্যারিজোনা ও ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের বহু জায়গায় ই-ভোটিং মেশিনে সমস্যা দেখা দেয়। হঠাৎ মেশিন বিকল হওয়া, ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়া, প্রচুর ভোট পড়ায় লোড নিতে না পারার মতো সমস্যাগুলো বেশি দেখা গেছে। সময়মতো ভোটিং মেশিন চালু করতে না পারায় দীর্ঘ লাইনও পড়ে যায়। কোথাও কোথাও ভোটাররা চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ঘটা এসব ঘটনায় কোথাও ভোট কারচুপির, অর্থাৎ, ইচ্ছা করে ইভিএমে কোনো পক্ষের অসাধু উপায় অবলম্বনের অভিযোগ ছিল না। যা হয়েছে তার সবগুলোই ছিল কারিগরি ত্রুটি। দেশটির নির্বাচনে সাধারণত কোনো পদ্ধতিতেই কারচুপির তেমন অভিযোগ পাওয়া যায় না। যদিও ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যতিক্রমভাবে বড় ধরনের ইভিএম কারচুপির অভিযোগ ওঠে।

দেশে দেশে ইভিএমে অনাস্থা:

পৃথিবীর শতকরা ৯০ ভাগ দেশে ইভিএম পদ্ধতি নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যেসব দেশ এ পদ্ধতি চালু করেছিল তারাও এখন এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা সংকুচিত করেছে। কোনো কোনো দেশ নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়ায় আছে। ইতোমধ্যে জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, স্পেন, রোমানিয়া, প্যারাগুয়ে, নরওয়ে, ইতালিসহ বেশ কিছু দেশ নির্বাচনে ইভিএম এর ব্যবহার বাতিল করে দিয়েছে। বর্তমানে ৪টি দেশে এ ইভিএম পদ্ধতি বহাল আছে।

২০০৬ সালে আয়ারল্যান্ড ই-ভোটিং ত্যাগ করে। ২০০৯ সালে জার্মানির ফেডারেল ভোট ইভিএমকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা দেয়। ২০০৯ সালে ফিনল্যান্ডের সুপ্রিমকোর্ট ৩টি মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনের ফলাফল অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করে। নেদারল্যান্ডে ই-ভোটিং কার্যক্রমের প্রয়োগ হয়। তবে, জনগণের আপত্তির মুখে তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় নেদারল্যান্ড সরকার।

ভারতের ইকোনোমিক টাইসম পত্রিকার সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশ্বের ২০০টি দেশের মধ্যে মাত্র ৪টি দেশে ব্যাপকভাবে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। ১১টি দেশে আংশিক এলাকায় ইভিএমের ব্যবহার রয়েছে এবং পাঁচটি দেশে পরীক্ষামূলক ব্যবহার চলছে। তিনটি দেশ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের পর সেটি থেকে সরে এসেছে। এছাড়া আরও ১১টি দেশ পরীক্ষামূলক প্রকল্প শেষ করার পরই তা নিষিদ্ধ করেছে। ২০০৯ সালে ফিনল্যান্ডের সুপ্রিমকোর্ট ইভিএমে সম্পন্ন তিনটি মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনের ফলাফল অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করে।

হ্যাকিংয়ের শঙ্কা:

গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের চার জনের একটি গবেষক দল যুক্তরাষ্ট্রে সবচাইতে বেশি ব্যবহার হওয়া ই-ভোটিং মেশিনগুলোর একটি ডায়াবোল্ড-অ্যাকুভোট-টিএস হ্যাক করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে সরাসরি হ্যাকিংয়ের ভিডিও প্রকাশ করেন তারা।

এছাড়াও ব্ল্যাকবক্সভোটিং ডটওআরজি, ওপেনভোটিং ফাউন্ডেশন ও জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্সের অধ্যাপক অভি রুবিন যুক্তরাষ্ট্রের ইভিএমের নিরাপত্তা ভেদ করে তা প্রকাশ করেন।

এর আগে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের হ্যাকাররা ৩০টি ই-ভোটিং মেশিন নিয়ে একযোগে চেষ্টা করলে প্রত্যেকটিই হ্যাক করতে সফল হন তারা। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, গড়ে মাত্র দেড় ঘণ্টার মাথায় প্রতিটি ভোটিং মেশিনেরই নিরাপত্তা ভেদ করতে সক্ষম হন হ্যাকাররা। হ্যাকারদের বৈশ্বিক বড় কয়েকটির অন্যতম ডেফ কন সম্মেলনে এমনটি করা হয়, যেটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাস শহরে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

বিভিন্ন দেশে ইভিএম নিষিদ্ধ এবং ধারাবাহিকভাবে সমালোচার শিকার হওয়ার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে গবেষকরা নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে নতুন মডেলের ইভিএম তৈরি করেছেন, এবং দাবি করেছেন তাদের তৈরি নতুন মডেলের ইভিএম কোনোভাবেই হ্যাক করা যায় না। ফলে এটিতে কারচুপিরও সুযোগ নেই।

‘হ্যাক করা যায় না, বা কারচুপি করা যায় না’ উদ্ভাবকদের এমন দাবিকে সামনে রেখে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নিউইয়র্ক টাইমস একটি দীর্ঘ অনুসন্ধানী ও বিশ্লেষণী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ‘The Myth of the Hacker-Proof Voting Machine’ শিরোনামের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়- “যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে ১৫ বছর আগে যখন প্রথম ইভিএম ব্যবহার শুরু হয় তখন থেকে আজ পর্যন্ত কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা যে অসংখ্য অভিযোগ করেছেন সেগুলোর প্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রতিটি মডেলের ইভিএম-ই হ্যাক করা সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে ইভিএম পদ্ধতিতে যথেষ্ট পরিমাণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়াই হয়নি। আর যেসব মডেলের ইভিএমে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, সেগুলোতেও বিশেষজ্ঞরা বড় ধরনের ত্রুটি বের করতে সক্ষম হয়েছেন।”


ইভিএম কারচুপি
নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কী বলেন:

জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্সের অধ্যাপক অভি রুবিন ইভিএম নিয়ে বলেন,‌ আমাদের গণতন্ত্রে আস্থা তৈরির জন্য এটি একটি ভুল এবং ভয়ঙ্কর প্ল্যাটফর্ম।

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই কম্পিউটার সিকিউরিটি অ্যান্ড সোসাইটির অধ্যাপক জে অ্যালেক্স হাল্ডারম্যান উইসকনসিন, মিশিগান ও পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে ই-ভোটিং মেশিন হ্যাকের শিকার হয়েছে বলে মনে করেন। তিনি হিলারি ক্লিনটনকে গোটা তিন অঙ্গরাজ্যেরভোট পুনগণনার আবেদন জানানোর পরামর্শ দেন। ওই তিনটি অঙ্গরাজ্যে সামান্য ব্যবধানে ট্রাম্পের নিকট পরাজিত হন হিলারি।

যুক্তরাজ্যের ইলেক্ট্রোনিক ভোটিং বিশেষজ্ঞ স্টিভ শ্নেইডার বিবিসিকে বলেন, ‘সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে গবেষকদের উদ্বেগকে গুরুত্ব না দেওয়া হলে মেশিনে ভোটপ্রদানকারীদের মনে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা তৈরি হতে পারে।‌‌’


ভা
রতেও বিতর্কিত ইভিএম:

ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা বিজেপি ছাড়া আর কোনো দলই ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমের উপর আস্থা রাখতে পারছে না। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের উপনির্বাচনে ইভিএমে যারাই ভোট দিয়েছেন সেখানে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ঘরেই সব ভোট পড়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে জড়িত থাকায় ৬ জন নির্বাচন কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করেছে কমিশন।

ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে ইভিএমে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছে বেশ কয়েকটি দল। গত বছর মার্চে দেশটির সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তরপ্রদেশে বিপুল ভোটে বিজেপি জিতলে আম আদমি পার্টির নেতা ও দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং বহুজন সমাজ পার্টির প্রধান মায়াবতী ইভিএম কারচুপির অভিযোগ তোলেন। এমনকি মায়াবতী নির্বাচনের আগেও বলেন, ইভিএম বাদে ভোট হলে বিজেপি জিততে পারবে না।

সম্প্রতি বিবিসিকে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এর মুখপাত্র অভিষেক মনু সিংভি বলছেন, "শুধু আমরাই নই - দেশের অন্তত ৭০ শতাংশ রাজনৈতিক দলই মনে করে যত দ্রুত সম্ভব কাগজের ব্যালট আবার ফিরিয়ে আনা উচিত। এই দাবিতে আমরা অনড় থাকব - কারণ ইভিএমের ওপর আমাদের বিশ্বাস টলে গেছে।"

শুধু রাজনীতিবিদদের বিরোধিতা নয়, বিশেষজ্ঞরাও দেখিয়েছেন ভারতে ব্যবহৃত ইভিএম মেশিনগুলো কতটা সহজে হ্যাক করা যয়।

২০১০ সালে ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা যখন দাবি করেছিলেন যে তাদের বানানো ইভিএম হ্যাক করা কোনো সুযোগ নেই। তার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী দেখান কিভাবে মোবাইল ফোন থেকে টেক্সট মেসেজ পাঠিয়ে তারা ভারতের নির্বাচনে ব্যবহৃত ইভিমের ফলাফল পাল্টে দিয়েছিলেন। (সূত্র: বিবিসি)

প্রফেসর জে অ্যালেক্স হ্যাল্ডারম্যানের নেতৃত্বে গবেষক দল তাদের ইভিএম হ্যাকিং কার্যক্রমের ভিডিও ধারণ করে পরে তা প্রকাশ করেছিল। এখানে ভিডিওটি দেখতে পারবেন।

ভারতে ইভিএম প্রতারণার নানা দৃষ্টান্ত নিয়ে একটি ওয়েবসাইট করা হয়েছে যার নাম indiaevm.org .

Related Post