ফ্যাক্টচেক: 'ওয়ার্ল্ড'কে গর্বভরে কী জানাচ্ছেন সোলায়মান সুখন?

08 December, 2018 14:12 PM সামাজিক মাধ্যম

কদরুদ্দীন শিশির

সোলায়মান সুখন নামে এক ফেসবুকার গত ৪ ডিসেম্বর তার প্রোফাইলে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। তাতে তিনি 'বিশ্ববাসী'কে উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশ সম্পর্কে তার দৃষ্টিতে কিছু 'ইতিবাচক' তথ্য তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছেন। বাংলাদেশের নাম শুনলে বহির্বিশ্বের মানুষের কাছে যেসব তথ্য বা চিত্র ফুটে ওঠে, বা বাংলাদেশ সম্পর্কে যেসব নেতিবাচক ইস্যুতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, তার বিপরীতে বাংলাদেশের 'কিছু অর্জন' তুলে ধরার চেষ্টা ছিল সুখনের ভিডিওতে। বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেছেন, তার দেয়া এসব পরিসংখ্যান বিশ্ববাসীকে বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শেখাবে।

 
সুখন তার ভিডিও শুরু করেছেন এভাবে--
 
"Hello World, I am Solaiman Shukhon. I am completely made in Bangladesh. You probably google and think that we are starving. Half the time, we are under water. We are drought affected. We are flood affected.
 
Those are past, trust me. If your algorithm is still showing you that, i am gonna giving you some facts that make you think twice:..."
 
ভিডিওটি বেশ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। প্রায় ৫ হাজার লোক এটি শেয়ার করেছেন, আড়াই লাখের বেশি ভিউ হয়েছে।
 
ওই ভিডিওতে কয়েকটি পরিসংখ্যান যেভাবে তুলে ধরেছেন তার সত্য-মিথ্যা যাচাই করে দেখার চেষ্টা করেছে bdfactcheck.com.
 
 
সুখনের 'নাম্বার ওয়ান' ক্লেইম (দাবি): শিশুমৃত্যুর হার বিশ্বের যেসব দেশে সবচেয়ে কম, সেগুলোর মধ্যে আমরাও (বাংলাদেশ) আছি।
 
ফ্যাক্টচেক ফলাফল: ভুল দাবি।
 
বাস্তবতা: বিশ্বের ২২৩টি দেশ ও স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলে শিশুমৃত্যুর হার মনিটর করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিশুমৃত্যুর হার আফগানিস্তানে। প্রতি হাজারে ১১০ দশমিক ৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়। সবচেয়ে কম শিশুমৃত্যুর হার মোনাকোতে; সেখানে এই হার প্রতি হাজারে ১ দশমিক ৮।
 
সুলায়মান সুখন জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রতিহাজারে শিশুমৃত্যুর হার ৩১ দশমিক ৭। এই তথ্যটি সঠিক হলেও এর মাধ্যমে তিনি মূল যে দাবিটি করেছেন তা সঠিক নয়।
 
 
বরং বিশ্বের যেসব দেশে শিশুমৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি সেসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। এই ইনডেক্সে ২২৩ দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৬১তম। অর্থাৎ, সবচেয়ে বেশি শিশুমৃত্যু হারের দিক থেকে বাংলাদেশ ৬১ তম। উল্টোভাবে বললে, সবচেয়ে কম শিশুমৃত্যুর হারের দিক থেকে বাংলাদেশ ১৬২ তম।
 
র‍্যাংকিংয়ে সর্বমোট ২২৩ টি নামকে দুইভাগে ভাগ করে প্রথমার্ধের দেশগুলোকে 'অন্যতম শীর্ষ' এবং শেষার্ধের দেশগুলোকে 'অন্যতম নিম্ন' হারের ধরলেও বাংলাদেশকে শিশুমৃত্যুর দিক থেকে 'অন্যতম নিম্ন হারের' (One of the lowest) দেশ হতে অন্ততপক্ষে ১১২ তম অবস্থানে বা তার পরে থাকতে হবে।
 
অর্থাৎ, এই তালিকায় ১১২ তম বা তার পরের ক্রমিকে যেসব দেশের নাম রয়েছে সেগুলোকে 'সবচেয়ে কম শিশুমৃত্যুর হারের দেশগুলোর অন্যতম' বলার সুযোগ আছে। আর ১১১ বা তার আগের ক্রকিমের দেশগুলোকে 'সবচেয়ে বেশি শিশুমৃত্যুর হারের দেশগুলোর অন্যতম' বলতে হবে। বাংলাদেশে ৬১ তম হওয়ায় 'সবচেয়ে বেশি শিশুমৃত্যুর হারের দেশগুলোর অন্যতম।
 
দেখুন স্ক্রিনশটে-
 
বিভ্রান্তি তৈরি না হওয়ার জন্য এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা উচিত। তা হলো, আমরা 'অন্যতম শীর্ষ' বা 'অন্যতম নিম্ন' নির্ধারণে উপরে যে পদ্ধতির (অর্ধেকে ভাগ করে দুই দিকে ক্রমিককে 'অন্যতম শীর্ষ' বা 'অন্যতম নিম্ন' বলা) তা কোনো স্টান্ডার্ড নিয়ম নয়। আমরা উদারণ দিয়ে বুঝানোর স্বার্থে এটি ব্যবহার করেছি। কোনো তালিকায় 'শীর্ষ' নির্ধারণের সাধারণ অনুশীলন হলো- 'শীর্ষ ৫' 'শীর্ষ ১০' 'শীর্ষ ২০' এভাবে বলা। 'অন্যতম শীর্ষ' 'অন্যতম নিম্ন' 'অন্যতম ভাল/খারাপ' 'One of the lowest' 'One of the highest' ইত্যাদি শব্দগুচ্ছ মূলত কোনো সঠিক তথ্য দেয়ার জন্য ব্যবহৃত হয় না। বরং প্রাচরণা বা প্রপাগান্ডার ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রচ্ছন্ন/অস্পষ্ট শব্দ বা শব্দগুচ্ছের ব্যবহার হয়ে থাকে।
 

গড় আয়ু নিয়ে সুখনের দাবি: গড় আয়ুর দিক থেকে বাংলাদেশিরা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষে আছে।
 
ফ্যাক্টচেক ফলাফল: প্রপাগান্ডামূলক বক্তব্য।
 
বাস্তবতা: বাংলাদেশিদের গড় আয়ু কত- তা নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার বিভিন্ন রকম তথ্য আছে। রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান সংস্থা বিবিএসের সর্বশেষ প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশিদের গড় আয়ু ৭১ বছর ৬ মাস বা ৭১ দশমিক ৫।
 
অন্যদিকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য হচ্ছে, ৭২ দশমিক ৭।
 
আবার সিআইএ ফ্যাক্টবুক জানুয়ারি মাসে আপেডট করা তাদের তথ্যে বলছে, এখানকার মানুষের গড় আয়ু ৭৩ দশমিক ৪।
 
 
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার করা জরিপে বিশ্বের ১৯৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের র‍্যাংকিংয়ে ৯৭। আর সিআইএ ফ্যাক্টবুক বলছে, ৭৩ দশমিক ৪ বছর গড় আয়ু নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ১৩৬তম (২২৪ দেশের মধ্যে)।
 
উভয় তালিকায় বাংলাদেশ গড় আয়ু হিসেবে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের পেছনে আছে। ফলে সুখনের আলোচ্য দাবিটি-- গড় আয়ুর দিক থেকে বাংলাদেশিরা বিশ্বের 'অন্যতম শীর্ষে'-- বক্তব্যটি তথ্যভিত্তিক নয়; বরং প্রপাগান্ডামূলক
 

দারিদ্র হার নিয়ে সুখনের দাবি:
'গত কয়েক বছরে' দারিদ্র ৪১ শতাংশ থেকে নেমে ২১ শতাংশে এসেছে।
 
ফ্যাক্টচেক ফলাফল: ভুল তথ্য ও প্রপাগান্ডামূলক বক্তব্য।
 
বাস্তবতা: সুখন বলেছেন, 'এক সময় আমাদের দেশে ৪১ শতাংশ মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করতো। গত কয়েক বছরে তা নেমে ২১ শতাংশে এসেছে।' এখানে প্রপাগান্ডামূলক শব্দগুচ্ছ হল- 'গত কয়েক বছরে'। এই 'গত কয়েক বছর' কবে থেকে শুরু হয়েছে তা বলেননি বক্তা। বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে ৪১ শতাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করতো ২০০৫ সালের আগে। ২০০৫-এ এই সংখ্যা ছিল ৪০ শতাংশ।
 
বিশ্বব্যাংক কর্তৃক ২০০০ সাল থেকে প্রতি ৫ বা ৬ বছর পরপর প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে ২০০০ সালে দারিদ্রসীমার নিচে বাস করা মানুষ ছিলেন এদেশে ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০০৫ সালে তা ৮ দশমিক ৯ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪০ শতাংশে। এরপরের ৫ বছরে সাড়ে ৮ শতাংশ কমে ২০১০ সালে দারিদ্রের হার দাঁড়ায় ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। আর পরের ৬ বছরে ৭ দশমিক ২ শতাংশ কমে ২০১৬ সালে বাংলাদেশে দারিদ্রের হার দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশে।
 
দেখুন গ্রাফে--
 
এটাই সর্বশেষ স্বীকৃত তথ্য। ফলে, সুখনের দাবি করা ২১ শতাংশ দারিদ্রের তথ্য স্বীকৃত কোনো মাধ্যমে পাওয়া যায়নি। আর তার বক্তব্যের 'গত কয়েক বছরে' (In last couple of years) অংশটির আভিধানিক অর্থে সঠিক হলেও প্রচ্ছন্ন শব্দ চয়নের কারণে দর্শকদের বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
 
 
সাক্ষরতার হার নিয়ে সুখনের দাবি: 'We have interesting literacy rate. 70 percent of our people are literate.' অর্থাৎ, আমাদের (দেশে) সাক্ষরতার হার বেশ চমকপ্রদ; ৭০ ভাগ লোক এখানে সাক্ষর।
 
ফ্যাক্টচেক ফলাফল: ভুল তথ্য ও প্রপাগান্ডামূলক বক্তব্য।
 
বাস্তবতা: সর্বশেষ চলতি বছরে প্রকাশিত ইউনেস্কোর তথ্য (২০১৬ সালে আপডেটেড) বলছে, বাংলাদেশের বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ। অবশ্য বাংলাদেশ সরকারের হিসাবে তা ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ। 
 
এই সাক্ষরতার হার দেখিয়ে সুখন বিশ্ববাসীকে বলছেন, 'We have interesting literacy rate. 70 percent of our people are literate'. অথচ বিশ্ববাসীর গড় সাক্ষরতার হার ৮৬ শতাংশের উপরে। সিআইএ ফ্যাক্টবুকের ১৬২ দেশের তালিকায় সাক্ষরতার হারে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৮ তম; অর্থাৎ, পেছনের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের নাম।
 
 
বিশ্বের গড় সাক্ষরতার হার বিশ্বব্যাংকের গ্রাফ দেখুন এখানে
 
 
 
লক্ষ্যণীয় হলো, এ ক্ষেত্রে সুখন আগের দাবিগুলোর মতো 'One of the lowest' 'One of the highest' ইত্যাদি না বলে নতুন প্রচ্ছন্ন শব্দ ব্যবহার করেছেন- 'interesting' বা চমকপ্রদ। যদিও ৮৬ শতাংশের বেশি সাক্ষরতার হার থাকা বিশ্ববাসীর কাছে ৭২ শতাংশ 'interesting' কিনা তা প্রশ্ন সাপেক্ষ।
 
 
রফতানি সংক্রান্ত সুখনের দাবি: বাংলাদেশ বছরে ৪১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করে। আগামী বছরে এই রফতানি টার্গেট ৩৯ বিলিয়ন ডলার ঠিক করেছে বাংলাদেশ সরকার।
 
ফ্যাক্টচেক ফলাফল: ভুল তথ্য।
 
 
বাস্তবতা: বাংলাদেশ বছরে ৩৬ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি পণ্য গত অর্থ বছরে রফতানি করেছে
 
 
পাসপোর্টের ক্ষমতা সংক্রান্ত দাবি: সুখন গর্বভরে বিশ্ববাসীকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশিরা বিনা ভিসায় বা অন-এরাইভাল ভিসায় ৪৪টি দেশ ভ্রমণ করতে পারেন। এটা বলে তিনি বাংলাদেশি পাসপোর্টের মর্যাদা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন বিশ্ববাসীর কাছে।
 
ফ্যাক্টচেক ফলাফল: প্রপাগান্ডামূলক বক্তব্য।
 
বাস্তবতা: বাংলাদেশিরা বিনা ভিসায় বা অন-এরাইভাল ভিসায় মোট কতটি দেশে যেতে পারেন সে তথ্য নিয়ে । একটি দেশের জন্য এটা খুব সাধারণ তথ্য; গর্বভরে বিশ্বকে বলার মতো কিছু নয়।
 
এশিয়া ও আফ্রিকায় এমন অনেক দেশ আছে যেগুলো বাংলাদেশের চেয়ে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকলেও তাদের নাগরিকরা বাংলাদেশিদের চেয়ে বেশি সংখ্যক দেশে বিনা ভিসায় বা অনএরাইভাল ভিসায় ভ্রমণ করতে পারেন। যেমন উগান্ডার নাগরিকরা পারেন ৬৬ দেশে। 
 
বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে 'বিশ্বাবাসী'র কাছে সুখনের প্রকাশ করা 'গর্ব' বাস্তবে কতটা ভিত্তিহীন তা বুঝা যাবে নিচের পরিসংখ্যান দেখলে--
 
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও সবচেয়ে দুর্বল পাসপোর্টের তালিকা প্রকাশ করে এমন দুটি খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠানের নাম Arton Capital এবং Henley & Partners.
 
প্রতিষ্ঠান দুটি কয়েক মাস পরপর নিজেদের অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে Passport Index প্রকাশ করে। অল্প কিছু ব্যবধান ছাড়া দুটির মূল র্যাংকিং প্রায় কাছাকাছিই থাকে।
 
এই ইনডেস্কে যে বিষয়টি আমলে নেয়া হয় তা হলো- কোন দেশের পাসপোর্ট দিয়ে সবচেয়ে বেশি দেশে বিনা ভিসায় ভ্রমণ করা যায়।
 
চলতি বছরের Arton Capital Passport Index গত সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছে। এবার সর্বোচ্চ স্কোর পেয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাসপোর্ট। দেশটির পাসপোর্টধারীদের জন্য বিশ্বের সর্বোচ্চ ১৬৭টি দেশে বিনা ভিসায় প্রবেশের অনুমতি রয়েছে। এর মধ্যে ১১৩ দেশে বিনা ভিসায় এবং ৫৪টিতে অন-এরাইভাল ভিসায় যেতেন পারেন আমিরাতবাসী।
 
১৬৬ দেশে বিনা ভিসা ও অন-এরাইভাল ভিসা সুবিধা নিয়ে এরপরেই রয়েছে যৌথভাবে সিঙ্গাপুর ও জার্মানির পাসপোর্ট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ১১টি দেশ রয়েছে ৩য় স্থানে (১৬৫ টি দেশে রয়েছে এসব দেশের সুবিধা)।
 
তালিকায় ১৯৩টি দেশ (জাতিসংঘ অনুমোদিত) মোট ৯৩টি অবস্থান পেয়েছে (অনেক দেশ সমান স্কোর পাওয়ায় একই অবস্থান পেয়েছে)। এর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৬ তম! অর্থাৎ, বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল বা অনাকাঙ্খিত পাসপোর্টের মধ্যে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ৭ নম্বর অবস্থানে। অন্যভাবেও বললে, যেসব দেশের পাসপোর্টধারীরা সবচেয়ে কম দেশে বিনা ভিসায় গমনের সুযোগ পান তাদের মধ্যে বাংলাদেশিরা ৭ম দুর্ভাগা!
 
আর দেশের আকারে হিসাব করলে, ১৯৩ দেশের মধ্যে সবচেয়ে অনাকাঙ্খিত পাসপোর্টের তালিকায় বাংলাদেশের পেছনে আছে মাত্র ৮টি দেশ-- ইরান, সুদান, ইয়েমেন, সোমালিয়া, সিরিয়া, পাকিস্তান, ইরাক, আফগানিস্তানের (সবচেয়ে বেশি)। অর্থাৎ, ১৯৩ দেশের মধ্যে ১৮৫ তম!
 
এক্ষেত্রে লক্ষণীয় হল, যুদ্ধ বা গৃহযুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোই (ইরান ছাড়া) শুধু বাংলাদেশের পরে অবস্থান করছে! যুদ্ধ চলছে না- এমন দেশের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে অনাকাঙ্খিত পাসপোর্ট দুটি হলো ইরান ও বাংলাদেশ।
 
সুখন ৪৪টি দেশে অন-এরাইভাল বা ভিসা ফ্রি ভ্রমণের সুযোগ থাকার কথা বললেও Arton Capital Passport Index জানাচ্ছে বাংলাদেশের স্কোর ৪৩; যার অর্থ এমন সুবিধা রয়েছে ৪৩টি দেশে। (৪৪ দেশে সুবিধা থাকলেও অবস্থান এক ধাপ আগায় মাত্র)।
 
দেখুন স্ক্রিনশটে--
 
 
অন্যদিকে গত অক্টোবরে Henley & Partners এর প্রকাশিত সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১০০ তম। Henley & Partners জাতিসংঘের স্বীকৃতি দেশগুলোর বাইরেও কয়েকটি দেশ এবং অঞ্চলকে তাদের সূচকে অন্তর্ভূক্ত করে। ২২৭ টি এমন গন্তব্যে যেতে বিনা ভিসায় ও অন-এরাইভাল ভিসা সুবিধা সবচেয়ে বেশি পায় যে দেশ সেটিকে সবচেয়ে ক্ষমতাশালী পাসপোর্ট ধরে নেয়া হয়। Henley & Partners এর তথ্য মতে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য এমন সুবিধা রয়েছে ৪১টি দেশ বা গন্তব্যে। এই সূচকে বাংলাদেশের পেছনে অবস্থান রয়েছে মাত্র ছয়টি, আর দেশ বা অঞ্চল রয়েছে ১৩টি।
 
স্ক্রিনশটে দেখুন Henley & Partners এর র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান।
 
 
নোট: ভিডিওটিতে আরো বেশ কিছু তথ্য ও দাবি তুলে ধরেছেন সুলায়মান সুখন। আমরা সেগুলোও চেক করা এখানে আপডেট করবো।
 

Related Post