ফ্যাক্টচেক: লন্ডনে তারেক-আইএসআই বৈঠকের খবরের সূত্র কী?

10 December, 2018 12:12 PM গণমাধ্যম

ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদক:

গত দুই দিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এবং সংবাদমাধ্যমে একটি খবর বেশ আলোচিত হচ্ছে। তা হলো লন্ডনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টিলিজেন্স) এর কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক হয়েছে।

এ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা বিএনপির বিরুদ্ধে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করছেন। যেমন- দলটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ শনিবার বলেছেন, ‘আইএসআই’র সঙ্গে বসে তারেক রহমান ষড়যন্ত্র করছে’ (সূত্র: বাংলাট্রিবিউন)।

একই দিন আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়ে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছেন তারেক রহমান। (সূত্র: কালের কণ্ঠ)।

এছাড়া দেশের অন্যান্য সংবাদমাধ্যমেও কথিত তারেক-আইএসআই বৈঠকের খবর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

bdfactcheck.com আলোচ্য সংবাদটির মূল উৎস কী তা খোঁজার চেষ্টা করেছে।

বাংলাদেশে এ সংক্রান্ত প্রথম সংবাদ পরিবেশন করে সময় টিভি গত ৭ ডিসেম্বর। টিভি চ্যানেলটির ভিডিও প্রতিবেদন দেখুন এই লিংকে। 

সময় টিভির ওয়েবসাইটেও "তারেক রহমানের সঙ্গে আইএসআই’র বৈঠক!" শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সেই প্রতিবেদনটি পড়ুন স্ক্রিনশটে--

প্রতিবেদনটির ইন্ট্রোতে বলা হয়েছে- "লন্ডনে তারেকের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর বৈঠকের খবর দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব আসাম’ বলছে, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে জামায়াত নিয়ন্ত্রিত সরকার প্রতিষ্ঠায় তৎপর পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা।"

অর্থাৎ, সময় টিভি খবরটির সূত্র হিসেবে দিয়েছে ‘টাইমস অব আসাম’। কিন্তু এটি ‘টাইমস অব আসাম’ বলছে এটি তাদের তৈরি করা প্রতিবেদন নয়; তারা অন্য একটি সংবাদমাধ্যম থেকে কপি করেছে মাত্র।

এই লিংকে গিয়ে ৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত টাইমস অব আসামের প্রতিবেদনটি পড়তে পারেন। শিরোনাম, "ISI’s zeal of Jamaat-e-Islami controlled government in Bangladesh Election".

টাইমস অব আসাম এর প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট--

নিচের স্ক্রিনশটের গোল চিহ্নিত অংশটি লক্ষ্য করুন- টাইমস অব আসাম' এর প্রতিবেদনের নিচে লেখা রয়েছে (Source: Weekly Blitz)--

Weekly Blitz একই দিন (৬ ডিসেম্বর) একই প্রতিবেদন প্রকাশ করে "Pakistani ISI desperately looking for victory of BNP-Jamaat" শিরোনামে।

Anita Mathur নামে একজনের লেখা প্রতিবেদনটি ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ৫৮ বার ভিউ হয়েছে বলে শিরোনামের নিচেই দেখা যাচ্ছে। Weekly Blitz এর প্রতিবেদনটি টাইমস অব আসাম প্রকাশ করার সময় শিরোনামসহ ভেতরে কন্টেন্ট একটু কাঁটছাট করেছে (অর্থাৎ আকার ছোট করেছে)।

Weekly Blitz এর প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট--

Weekly Blitz এর প্রতিবেদনের শিরোনামের উপরে 'ক্যাটাগরি' হিসেবে 'news' দেখাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এটিতে সংবাদ প্রতিবেদনের বৈশিষ্টের বাইরে গিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন লেখক। বিশেষ করে প্রতিবেদনটির শেষ প্যারাটি লক্ষ্যণীয়। এছাড়া প্রতিবেদনটির বেশিরভাগ অংশই অতীতে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত নানা রিপোর্ট থেকে নেয়া তথ্য ও বক্তব্যের সংকলন; যা একটি সংবাদ প্রতিবেদনের বৈশিষ্টের চেয়ে মন্তব্য প্রতিবেদনের সাথে বেশি মাননসই।

প্রতিবেদনটির যে অংশগুলোতে 'নতুন তথ্য' দেয়ার প্রয়াস পেয়েছেন লেখক, সেসব ক্ষেত্রে তিনি কোনো সূত্রের নাম উল্লেখ করতে পারেননি। আলোচ্য প্রতিবেদনে যেসব সূত্রের বরাত তিনি দিয়েছেন সেগুলো হল-- "According to credible sources..." "Political analysts say...".

যেমন- এই প্রতিবেদনের মূল 'তথ্যটি' তিনি পরিবেশন করেছেন এভাবে, "According to credible sources, ISI is seeing the upcoming election as a battle between Islamabad and New Delhi and are willing to see an anti-Indian BNP and Jamaat win a landslide victory. With this goal, ISI officials had already held meeting with BNP’s fugitive leader Tarique Rahman in London as well JIB leader barrister Abdur Razzak promising all possible cooperation in attaining this target."

Weekly Blitz এর লেখক credible sources থেকে এসব তথ্য পেয়েছেন বলে দাবি করছেন। কিন্তু পাঠকের কাছে Weekly Blitz কোনো credible সংবাদমাধ্যম হিসেবে বিবেচিত কীনা- এত গুরুত্বপূর্ণ 'তথ্য' আমলে নেয়ার আগে তা যাচাই করা প্রয়োজন।

তার আগে আলোচ্য প্রতিবেদনের (যেখানে বাংলাদেশে উগ্রপন্থার বিস্তার নিয়ে নানা তথ্য, দাবি ও শঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে) শেষ প্যারাটি দেখা যাক। বলা হয়েছে- "Political analysts say, US President Donald Trump only can save Bangladesh from going into the grips of radical Islamists. As a time-tested friend of Bangladesh, United States needs to effectively help Bangladeshi Prime Minister Sheikh Hasina in saving the country from becoming a Sharia nation or Caliphate."

এখানে নামহীন 'পলিটিক্যাল এনালিস্টদের' বরাতে মূলত রিপোর্টার তার নিজের পক্ষ থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।


Weekly Blitz এর কাজ কী? Times of Assam এটির রিপোর্টকে গুরুত্ব দেয়ার কারণ-ই বা কী?


Weekly Blitz হচ্ছে বাংলাদেশি সাংবাদিক সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী প্রকাশিত ও সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা। পত্রিকাটির কর্তৃপক্ষ নিজেদেরকে 'উগ্রবাদী ইসলাম' এর বিরুদ্ধে লড়াইকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাদের ওয়েবসাইটের 'About Us' সেকশনে লেখা হয়েছে, "In today’s world of insanity and biased journalism, Blitz possibly is the only newspaper that has been boldly confronting radical Islam."

সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী বর্তমানে রাষ্ট্রদ্রোহ এবং প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় দণ্ডিত হিসেবে কারাগারে রয়েছেন। ২০০৩ সালে বাংলাদেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা ইহুদীবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েল সফরে যাওয়ার চেষ্টা করে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেফতার হন সালাহ উদ্দিন। তিনি নিজেকে 'মুসলিম জায়োনিস্ট' বলে বহির্বিশ্বে পরিচয় দিতেন। একসময় ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজও করেছেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক।

টাইমস অব আসাম-এরও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হলেন সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী। পত্রিকাটির ওয়েবসাইটে গিয়ে তথ্যটি দেখতে পারেন এই লিংকে। আর স্ক্রিনশটে দেখুন--

ফলে বুঝাই যাচ্ছে Weekly Blitz এর সাথে Times of Assam এর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

Weekly Blitz এর ওয়েবসাইটের প্রথম পাতায় যেসব প্রতিবেদন রয়েছে সেগুলো দেখলেই এটির কর্তৃপক্ষের ইসলামবিদ্বেষী (islamophobia) মনোভাবের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এটির সম্পাদক ও প্রকাশক সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর 'ইসরায়েলপন্থী' পরিচয় এবং নিজেকে 'মুসলিম জায়োনিস্ট' হিসেবে জাহির করার তথ্য আগেই বলা হয়েছে। 


Weekly Blitz এর মূল কাজ ইসলামবিদ্বেষ ছড়ানো। ইহুদীবাদী (Zionist) বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তি-- যারা ইসলামবিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য কুখ্যাত-- তাদের সাথে ম্যাগাজিনটির ঘনিষ্টতা বেশ লক্ষ্যণীয়। আমরা যে প্রতিবেদন নিয়ে এখানে আলোচনা করছি তাতেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

"Pakistani ISI desperately looking for victory of BNP-Jamaat"- শিরোনামের প্রতিবেদনটির মূল বক্তব্য কিন্তু 'তারেক-আইএসআই বৈঠক' নয়। এটি 'সাপোর্টিং ইনফোরমেশন'। মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে, 'বাংলাদেশ কিভাবে একটি উগ্রবাদী রাষ্ট্র হয়ে যাচ্ছে বা উগ্রবাদীরা এখানে কতটা শক্তিশালী'- তা তুলে ধরা। এই ধারণাটি পোক্ত করতে নিয়মিত বাংলাদেশ নিয়ে 'অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে' নানান প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে ম্যাগাজিনটি। এরকম কয়েকটি শিরোনাম দেখুন--


৯ ডিসেম্বর- Pakistan’s spy service actively working for jihadist organization to be part of Bangladesh’s next government

৯ ডিসেম্বর- India should remain ever indebted to Sheikh Hasina

৮ ডিসেম্বর- Bangladesh: A journey from democracy to Caliphate 

৮ ডিসেম্বর- ISI sees BNP-Jamaat winning December 30 general election in Bangladesh


এসব রিপোর্ট কতটা সারবত্তাহীন এবং অনুমান-নির্ভর প্রপাগান্ডা তার একটা নমুনা তুলে ধরছি। ISI sees BNP-Jamaat winning December 30 general election in Bangladesh শিরোনামের ৮ ডিসেম্বর প্রকাশিত রিপোর্টটিতে বিভিন্ন 'গুরুত্বপূর্ণ তথ্য' তুলে ধরতে একটিবারের জন্যও কোনো সূত্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি। বরং অজ্ঞাত সব সূত্রের বরাত দিতে গিয়ে রিপোর্টের বিভিন্ন স্থানে নিচের শব্দগুচ্ছগুলো ব্যবহার করা হয়েছে--

"On condition of anonymity a political analyst in Washington told this correspondent..."

"According to sources..."

"Another source said..."

"Sources further added..."

"Many analysts see..."

"Many of the analysts believe..."

"Many analysts even believe..."

"(it is) rumored..."

"it is anticipated..."

"Talking to this correspondent, some analysts said,..."

লক্ষ্যণীয় হল, কোনো 'তথ্য' পরিবেশনের আগে যেমন source এর নাম উল্লেখ থেকে বিরত থাকা হচ্ছে, তেমনই কোনো 'মতামত' প্রকাশকারী বা 'বিশ্লেষকের' নামও বলা হচ্ছে না! যেমন- 'Many analysts see', 'Many of the analysts believe' 'some analysts said' ইত্যাদি। আবার একই রিপোর্টে rumor বা গুঞ্জন/গুজবের বরাতেও 'তথ্য' পরিবেশন করা হচ্ছে!

এমন রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ না হয়ে পারে না। বেশ কয়েকটি রিপোর্ট যাচাই করে দেখা গেছে, Weekly Blitz এর বেশিরভাগ রিপোর্ট এমনই।

Weekly Blitz এর কাজ এবং এটির সম্পাদকের পরিচয়ের পাশাপাশি আলোচ্য প্রতিবেদনের লেখক Anita Mathur এবং প্রতিবেদনে যেসব সংস্থার (The Middle East Forum ও Investigative Project on Terrorism), এবং যেসব গবেষকদের (Abha Shankar ও Sam Westrop) নিবন্ধ থেকে মন্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে তাদের পরিচয় জানলে পত্রিকাটির এসব 'অজ্ঞাত সূত্রের' বরাত দেয়া একের পর এক প্রকাশ করা রিপোর্টের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

প্রতিবেদনের লেখক Anita Mathur খুব উল্লেখযোগ্য কেউ নন। তার পরিচয় সম্পর্কে Weekly Blitz এর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে "senior journalist". এছাড়া ম্যাগাজিনটির ওয়েবসাইটে Special Contributors এর তালিকায় Anita Mathur এর নাম রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময়ে সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর পক্ষে ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন ওয়েবসাইটে লেখালেখি করেছেন। তেমন একটি লেখা-- a courageous voice confronting Islamofascists.


আলোচ্য রিপোর্ট (Pakistani ISI desperately looking for victory of BNP-Jamaat) এর "Jamaat is a global terror outfit" উপশিরোনামের অধীনে একটি প্যারায় লেখা হয়েছে--

"...Commenting on Jamaat e Islami (JI), Abha Shankar, Senior Analyst at the Investigation Projection Terrorism Investigative Project on Terrorism and Sam Westrop, Director of Islamist Watch, a project of the Middle East Forum in an article wrote, “In the decades since the 1971 war, JI has committed violent acts all across South Asia and, today, the Bangladeshi branch is closely involved with Islamist terror in both Bangladesh and India. JI leaders have openly expressed support for Taliban terrorists and mourned their deaths. And in 2017, the U.S. government designated Hizbul Mujahideen, a Kashmiri jihadist group and JI Pakistan’s “militant wing,” as a terrorist organization.”

এখানে Abha Shankar নামের বিশেষজ্ঞের পরিচয় দেয়া হয়েছে Senior Analyst at the Investigative Project on Terrorism. (উপরের প্যারায় সম্ভবত ভুলবশত Investigation Projection Terrorism শব্দগুলো যুক্ত হয়েছে। কারণ প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে এমন কোনো নামের অস্তিত্ব নেই)।

আর Sam Westrop নামক বিশেষজ্ঞের পরিচয় দেয়া হয়েছে Director of Islamist Watch, a project of the Middle East Forum.


Investigative Project on Terrorism ( IPT) ও The Middle East Forum (MEF) এর পরিচয়:

এনসাইক্লোপিডিয়া ওয়েবসাইট powerbase-এ The Middle East Forum (MEF) সম্পর্কে লেখা হয়েছে- "The Middle East Forum (MEF) is a right-wing Zionist think-tank based in Philadelphia, USA. It was founded by Daniel Pipes in 1990."

আর The Investigative Project on Terrorism ( IPT) হলো একটি গবেষণা সংস্থা; ১৯৯৫ সালে যেটি প্রতিষ্ঠা করেছেন Steven Emerson.

Investigative Project on Terrorism এর অন্যতম অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান হলো The Middle East Forum (MEF). ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে IPT-কে ১৪ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছিলো MEF. (সূত্র: Center for American Progress)

বিশ্বজুড়ে ইসলামবিদ্বেষ (Islamophobia) ছড়ানোর কাজে অর্থায়ন করা কয়েকটি সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে ২০১৬ সালের জুন মাসে Funding Islamophobia: $206m went to promoting 'hatred' of American Muslims শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে দ্য গার্ডিয়ান। তাতে শীর্ষ যে ৯টি সংস্থার মধ্যে Investigative Project on Terrorism এবং Middle East Forum এর নাম রয়েছে।

দেখুন স্ক্রিনশটে--

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী উদারবাদী ইহুদীদের সংগঠন Jewish Voice for Peace এর প্রকাশ করা (২০১৭) "Defund Islamophobia: How the Jewish United Fund of Metropolitan Chicago Supports Anti-Muslim Hate Groups" শিরোনামের রিপোর্টে তুলে আনা হয় Jewish United Fund নামে একটি অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান থেকে বিগত কয়েক বছরে ইসলামবিদ্বেষী নানা কার্যক্রমের জন্য কী পরিমাণ অর্থ Investigative Project on Terrorism ও Middle East Forum-কে দিয়েছিলো।

স্ক্রিনশটে দেখুন--


৪৩ তম ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে উপস্থাপিত Ninth OIC Observatory Report on Islamophobia (May 2015- Sept 2016) এ MEF সম্পর্কে যা বলা হয়েছে পড়ুন নিচের স্ক্রিনশটে--

Investigative Project on Terrorism এর senior Intelligence Analyst Abha Shankar কী ধরনের কাজ করেন সে সম্পর্কে ধারণা পেতে IPT এর ওয়েবসাইটে তার লেখা কিছু রিপোর্ট দেখতে পারেন এই লিংক ও স্ক্রিনশটে--

আর Middle East Forum এর প্রজেক্ট Islamist Watch এর পরিচালক Sam Westrop এর পরিচয় সম্পর্কে এনসাইক্লোপেডিয়া সাইট powerbase- এ লেখা হয়েছে, "...Sam Westrop is a right wing pro-Israel activist..."

Middle East Forum এর ওয়েবসাইটে Sam Westrop-কে Gatestone Institute এর senior fellow হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। Gatestone Institute হচ্ছে আমেরিকার সবচেয়ে কুখ্যাত ইসলামবিদ্বেষী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি।

২০১৫ সালে নভেম্বর মাসে খ্যাতিমান সংবাদমাধ্যম alternet 'Gatestone Institute' এর ইসলামবিদ্বেষী কার্যক্রম নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার শিরোনাম ছিলো "One of America's Most Dangerous Think Tanks Is Spreading Islamophobic Hate Across the Atlantic".

Sam Westrop এবং তার প্রতিষ্ঠান Stand for Peace এর ইসলামবিদ্বেষী কার্যক্রম এই প্রতিবেদনেই তুলে ধরেছে alternet.


সারাংশ:

#Weekly Blitz এর আলোচ্য রিপোর্টে যে মাত্রার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। একাধিক সূত্রের কথা বললেও সবই অজ্ঞাত। ফলে রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়।

#Weekly Blitz তার অতীতের সাংবাদিকতা দিয়ে এমন কোনো সুনাম অর্জনকারী সংবাদমাধ্যম নয়, যেটিতে প্রকাশিত প্রমাণবিহীন এবং অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে প্রকাশিত এমন গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্টকে বিশ্বাস করা যেতে পারে। বরং আরো অনেক রিপোর্টেও একই ধরনের অজ্ঞাত সূত্র, এমনকি অজ্ঞাত বিশেষজ্ঞের বরাতেও নানান বিষয়ে মন্তব্য ও খবর প্রকাশ করাই পত্রিকাটির কাজ।

#Weekly Blitz এর মালিক ও কর্তৃপক্ষের পরিচয়, পত্রিকাটির বিভিন্ন রিপোর্টের উপজীব্য এবং তাতে উপস্থাপিত বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যেসব রেফারেন্স দেয়া হয়ে থাকে তাদের পরিচয় মিলিয়ে যে 'প্যাটার্ন' দাঁড়াচ্ছে তাতে এটা স্পষ্ট যে, তাদের কার্যক্রমের বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে। (আর সেই উদ্দেশ্যকে "বিশেষ গোষ্ঠির (ইসলাম ও ইসলামপন্থী বিভিন্ন পরিচয়) প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর সম্মিলিত প্রয়াস" হিসেবে মনে করারও যথেষ্ট কারণ বিদ্যমান)। আর কোনো বিশেষ উদ্দেশে প্রকাশিত একটি সংবাদমাধ্যমের অজ্ঞাত সূত্র ও প্রপাগান্ডামূলক উপস্থাপনায় পরিবেশিত কোনো তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা সব সময়ই প্রশ্নবিদ্ধ থাকে।

নোট: লন্ডনে তারেক রহমান ও আইএসআইয়ের মধ্যে গোপন কোনো বৈঠক হয়েছে কিনা তা চেক করে সিদ্ধান্ত দেয়া ফ্যাক্ট চেকারদের কাজ নয়, এবং সম্ভবও নয়। আমরা এই রিপোর্টে শুধু দেখার চেষ্টা করেছি, কিভাবে এ সংক্রান্ত খবরটি ছড়ালো।

Related Post