ভারতে ভাইরাল হিন্দু অত্যাচারের ভিডিওটি আসলে বাংলাদেশের

25 December, 2018 01:12 AM আন্তর্জাতিক

ইন্ডিয়া টুডে ফ্যাক্টচেক টিম:

ভারতের রাজস্থানে নির্বাচনের পর সেখানে ভাইরাল হওয়া একজন হিন্দুকে হত্যার ভিডিওটি ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইন্ডিয়া টুডে’র ফ্যাক্ট চেক টিম। তাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি মূলত বাংলাদেশের, ২০১৩ সালের।

রাজস্থান প্রাদৈশিক নির্বাচনে কংগ্রেসের জয়ের পর একটি মর্মান্তিক ভিডিও সেখানকার সামাজিম মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ভিডিওটির মাধ্যমে দাবি করা হয়, কংগ্রেসের জয়ের পর সেখানে হিন্দুদের হত্যা এবং তাদের ঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে মুসলিমরা।  

ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, কিছু মধ্যবয়স্ক নারী কান্নাকাটি করছে কারণ তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবং ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, “কংগ্রেসের জয়ের পরপরই মুসলিমরা মাড়োয়ারিদের ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে এবং জয়সালমারের দাড়তি গ্রামের দুজনকে হত্যাও করেছে।”

ইন্ডিয়া টুডে পত্রিকার ফ্যাক্ট চেক টিম অনুসন্ধান করে দেখেছে, এই ভিডিওটি আসলে কোনভাবেই রাজস্তানের নয়, বরং ভিডিওটি ধারণ করা হয় মার্চ ২০১৩ সালে, বাংলাদেশের নোয়াখালীতে।

এক মিনিট আট সেকেন্ডের ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওটিতে দেখা যায়, ২জন মহিলা একটি হামলাকৃত এবং আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া ঘরের ধ্বংসাবশেষের সামনে বসে কান্নাকাটি করছে। ভিডিওটি এখন পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি শেয়ার হয়েছে।

ইন্ডিয়া টুডে পত্রিকার ফ্যাক্ট চেক টিম জানায়, “আমরা উক্ত ভাইরাল ভিডিওটির আসল এবং আরো দীর্ঘ সময়ের ভিডিওটি বের করতে সক্ষম হয়েছি। যা ২০১৩ সালে আপলোড করা হয়েছিল, শিরোনাম ছিল, “নোয়াখালীতে ৭৬টি হিন্দুদের বাড়ি এবং ৫টি মন্দিরে মুসলিমদের হামলা।”

৮ মিনিটের সম্পূর্ণ ভিডিওটিতে এমন কিছু ব্যাপার আছে যা প্রমান করে যে এটি বাংলাদেশে ধারণকৃত। ভিডিওটির শুরুতেই দেখা যায়, কিছু মহিলা বাংলায় কথা বলছে। তারা সেখানে বলছে, কিভাবে তাদের ঘরবাড়িতে হামলা হয়েছে। বাংলাদেশে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিনিধিও নিশ্চিত করেছেন, মহিলাগুলোর বাংলা বলার ধরণ ছিল নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায়। নোয়াখালী বাংলাদেশের একটি জেলা। এছাড়া ভিডিওটির ৪.০২ মিনিটে গেলে ভেসে আসে “শ্রী শ্রী রাজগঞ্জ সার্বজনীক হরি সেবা আশ্রম, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী” নামের একটি মন্দিরের নাম।

এছাড়া ৬.৪৯ মিনিটে দেখা যায়, “পুলিশ সুপার অফিস, নোয়াখালী”।

২০১৩ সালের মার্চ মাসে এই ভিডিওটি ব্যবহার করে একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়। যেখানে বলা হয়, এইসব ঘরবাড়ী-মন্দির হামলার সাথে নোয়াখালীর জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা জড়িত।

আরো খুঁজতে গেলে এই তথ্যের উপর আরো নানা প্রতিবেদন আমাদের নজরে আসে।

সেসব প্রতিবেদন মতে, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা নোয়াখালী ছাড়াও নানা অঞ্চলে মন্দির-ঘরবাড়ি হামলার সাথে জড়িত। বলা হচ্ছে, তাদের নেতা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদন্ডের রায়ের প্রতিবাদে তারা এসব হামলা করে। সেই ভিডিওটিকেই রাজস্থানের হামলার ভিডিও বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছিল।

অনুবাদ: মিনহাজ আমান

Related Post