বিরোধী দলের বিভিন্ন প্রার্থী ও দলের আইডি হ্যাক করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা: কারা জড়িত?

29 December, 2018 05:12 AM ইলেকশন চেক ২০১৮

জাহেদ আরমান:

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরীক বিএনপিসহ বিরোধী দলের বিভিন্ন প্রার্থীদের ফেসবুক ও টুইটার আইডি হ্যাক করে নানান বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এতে করে সাধারণত মানুষ ও ভোটাররা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। বিডি ফ্যাক্টচেকের পক্ষ থেকে এরকম হ্যাকিংয়ের শিকার কয়েকটি আইডি ও পেইজের পিছনে কারা জড়িত তার বিশ্লেষণ ‍তুলে ধরা হলো।

গত বুধবার রাত তিনটার দিকে বিএনপির ফেসবুক ভেরিফাইড পেজ ‘Bangladesh Nationalist Party-BNP’ হ্যাক করে তা থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের নামে বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট দেয়া হয়েছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বিষয়টি একটি লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। যদিও পরবর্তীতে পেইজটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

গোলাম মাওলা রনিও তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ হ্যাক হওয়ায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। অন্য একটি ফেসবুক আইডি খুলে তিনি জিডির কপি ফেসবুকে পোস্ট করেন আর লিখেন, “এতদ্বারা সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আমার ফেসবুক আইডি Golam Maula Rony হ্যাক হয়েছে। আইডি হ্যাকের ব্যাপারে থানায় জেনারেল ডায়েরি করা হয়েছে। সবাইকে অনুরোধ করছি-ওই আইডি থেকে কোনো প্রকার মেসেজ, কল অথবা কমেন্ট করলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।” হ্যাকিংয়ের শিকার ওই আইডি থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে ট্রল করে বানানো একটি ভিডিও শেয়ার দিয়ে ক্যাপশনে লেখা হয়, “ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অসামান্য বীরত্ব দেখে আমি মুগ্ধ।”

হ্যাকিংয়ের শিকার হওয়া গোলাম মাওলা রনির ফেসবুক আইডি থেকে ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তিকর তথ্য।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি পেইজটি উদ্ধার করতে পারেননি। তার ফেসবুক আইডি থেকে বিভ্রান্তিমূলক বিভিন্ন পোস্ট দেওয়া হচ্ছে।  

ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের ফেসবুক ও টুইটার একাউন্ট হ্যাক করে তা থেকে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেয়া হচ্ছে। তাঁর টুইটার একাউন্ট থেকে সর্বশেষ টুইট করা হয়েছে, ২৮ ডিসেম্বর ১০ টা ৫৯ মিনিটে। এতে বলা হয়েছে, “তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কে নিয়ে মিথ্যাচারে লিপ্ত হওয়ায় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ কে বিএনপির সকল পর্যায় এর পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।” অথচ বিডি ফ্যাক্টচেকের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে এটা গুজব।

হ্যাকিংয়ের শিকার হওয়া ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের টুইটার একাউন্ট থেকে ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তিকর তথ্য।

এ সম্পর্কিত প্রতিবেদন পড়ুন: ভুয়া সংবাদ: দলীয় শঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মওদুদকে বহিষ্কার করলেন মির্জা ফখরুল

একই দিন সকাল সাতটায় দেওয়া টুইট বার্তায় বলা হচ্ছে, “আমার বউ ও নৌকাতে ভোট চায়, কি করবো আর বেঁচে থেকে।”

গণসংহতি আন্দোলন ও দলটির প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকির ফেসবুক পেজ ও আইডি হ্যাক করা হয়েছে। হ্যাক হওয়া জোনায়েদ সাকির ফেসবুক আইডি থেকে  করা একটি পোস্টে বলা হয়, “গোলাম মাওলা রনির উপর ঐক্যফ্রন্টের ক্যাডার বাহিনীর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।” অথচ গোলাম মাওলা রনি দাবি করেছেন তার উপর হামলাকারীরা আওয়ামী লীগের।

হ্যাকিংয়ের শিকার গণসংহতি আন্দোলনের ফেসবুক পেজ থেকে ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তিকর তথ্য।

কারা জড়িত?

ফেসবুক আইডি ও পেইজ হ্যাক করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানোতে একটি পক্ষই জড়িত। দুটি কারণে বিডি ফ্যাক্টচেক এই সিদ্ধান্তে পৌছেছে। প্রথমত, হ্যাক হওয়া আইডি কিংবা পেইজে  হুবহু একই পোস্ট কপি করে দেয়া হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, জোনায়েদ সাকির ফেসবুক আইডি থেকে সর্বশেষ যে পোস্টটি দেয়া হয় তা হচ্ছে, “নির্বাচন বিষয় টা এমন ই। দলীয় অনেকেই মনোনয়ন চাইবে, তবে তাদের মধ্যে যোগ্য ব্যক্তিকেই মনোনয়ন দেয়া হয়। কিন্তু মনোনয়ন না পেয়ে নিজ দলীয় লোক কে মারধর করা পুরোপুরি নিচু মানসিকতার কাজ।”  এই একই পোস্ট ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের টুইটার একাউন্ট থেকেও পোস্ট করা হয়েছে। এখান থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, এসব হ্যাকিংয়ের ঘটনা একটা পক্ষ থেকেই ঘটানো হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, যে ফেসবুক আইডি এবং পেইজগুলো হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে সবগুলোই বিরোধী দলীয় প্রার্থীদের এবং সবগুলো থেকেই বিরোধী দল সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ফেসবুক ও টুইটার ১৫টি একাউন্ট  ও পেজ বন্ধ করে দিয়েছিলো যেগুলো থেকে বিরোধী দলের বিপক্ষে গুজব ছড়ানো হচ্ছিল।

প্রতিষ্ঠিত নিউজ সাইটের হুবহু নকল করে তৈরি করা নয়টি ফেসবুক পেজ এবং ছয়টি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট যারা কিনা বিরোধীপক্ষকে লক্ষ্য বানিয়ে প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানোর কাজ করতো।  আর এগুলো সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই করে আসছিলেন বলে জানিয়েছেন ফেসবুকের সাইবার নিরাপত্তা প্রধান নাথানিয়েল গ্লেচার।

টুইটারও বলেছে, “আমাদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে মনে হয়েছে, অ্যাকাউন্টগুলোর কয়েকটির সঙ্গে সরকারি অর্থায়নপুষ্টরা জড়িত রয়েছেন।” টুইটারের বন্ধ অ্যাকাউন্টগুলো সম্পর্কে কিছু তথ্য দেওয়া হলেও কখন এগুলো বন্ধ করা হয়েছে তা জানানো হয়নি।

এ সম্পর্কিত আমাদের প্রতিবেদন পড়ুন: ফেসবুক-টুইটার বন্ধ করলো একাধিক ভুয়া একাউন্ট

 

Related Post