নোয়াখালীতে দলগত ধর্ষণের শিকার নারীর মৃত্যুর খবরটি গুজব

02 January, 2019 16:01 PM সামাজিক মাধ্যম

ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদক:

নোয়াখালীতে দলগত ধর্ষণের শিকার নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। এঘটনায় ভুয়া ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিডি ফ্যাক্টচেকের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ওই নারী এখনও নোয়াখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

সৌদি আরব প্রবাসী একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী একটি ছবি পোস্ট করে লিখেন, “আওয়ামি দুঃশাসনের প্রথম শিকার ধর্ষিতা পারুলের কবরে তার নাবালক শিশুদের আহাজারি । এ যেন আওয়ামী দুর্বৃত্ত কর্তৃক ধর্ষিতা বাংলাদেশের কবরে অসহায় জনতার ক্রন্দন।”

ছবি ১: ভুয়া ছবি ব্যবহার করে গুজব ছড়াচ্ছে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।

আরেকটি  ফেসবুক পেইজে ওই নারীর ছবি পোস্ট করে লেখা হয়, “অনেকেই দেখি লিখতেছেন আজকের আলোচিত পারুল নাকি মারা গেছে? যদি মরে যায় তাহলে আমি বলবো সে সত্যি বেঁচে গেছে। যদি সে বেঁচে থাকতো তাকে অনেক অপবাদ, লাঞ্ছনা সইতে হতো।যদিও তার উপর ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য বর্বরতা চালানো হয়েছে তার পারও সমাজ তার প্রতি একটুও সহানুভূতিশীল হতো না বরং তাকে নিয়ে উপহাস করতো।"

বিডিফ্যাক্টচেকের সঙ্গে নোয়াখালীর স্থানীয় সাংবাদিক মো. মাসুদ পারভেজের কথা হলে তিনি জানান, নির্যাতনের শিকার ওই নারী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সৈয়দ আলমগীর আব্দুল আজিম বিডিফ্যাক্টচেককে বলেন, মৃত্যুর খবরটি সম্পূর্ণ ভুল। নির্যাতনের শিকার নারীকে হাসপাতালের ৮ নম্বর কেবিনে গাইনি বিভাগের অধীনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রথম আলোও নিশ্চিত করেছে, ওই নারী হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন আছেন। 

মৃত্যুর গুজবের সাথে একটি ভুয়া ছবিও ছড়িয়ে পড়ছে ফেসবুকে। এইরকম একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দুটি বাচ্চা একটি কবরের কাছে কান্না করছে। ক্যাপশন দিয়ে বোঝানো হচ্ছে, এই বাচ্চা দুটি ওই নারীর। মাকে হারিয়ে বাচ্চা দুইটি কান্না করছে কবরের পাশে।

ছবি ২: এই ছবিটি গত ১২ ডিসেম্বর পোস্ট করা হয় ফেসবুকে। 

গুগল ইমেজ সার্চে দেখা যাচ্ছে ছবিটি আরও আগের। ডিসেম্বরের ১২ তারিখে নামক একটি ফেসবুক পেইজে এই ছবি পোস্ট করে ক্যপশনে লেখা হয়, “ছবিটা দেখে কি লিখবো ভাবতে ভাবতেই চোখে পানি চলে আসলো।”

গত রোববার রাতে একদল যুবক ওই নারীর ঘরে ঢুকে প্রথমে তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে মারধর করে। পরে স্বামী ও সন্তানদের বেঁধে রেখে ওই নারীকে ঘরের বাইরে নিয়ে দলগত ধর্ষণ করা হয়। ওই নারী ও স্থানীয়রা বলছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিকে ভোট দেয়ায় তাঁর উপর এই নির্যাতন করা হয়েছে।

Related Post