ট্রাম্পের চিঠি বিষয়ে যা বললো মার্কিন দূতাবাস

27 January, 2019 11:01 AM গণমাধ্যম

ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাঠানো একটি চিঠি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশি মিডিয়ার বড় অংশ চিঠিটিকে 'ট্রাম্পের অভিনন্দন বার্তা' হিসেবে তুলে ধরেছে। যেমনটি দেখা যাচ্ছে নিচের স্ক্রিনশটে--



বিডিনিউজ ট্রাম্পের চিঠিটির একটি কপি হুবহু প্রকাশ করেছে। নিচে দেখুন--

অন্যদিকে জাস্টনিউজবিডি নামে একটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে খোঁজ নিয়ে চিঠির সত্যতা পাওয়া যায়নি। নিচের স্ক্রিনশটে দেখুন--


এছাড়া সামাজিক মাধ্যমেও অনেকে চিঠিটি 'বিশ্লেষণ করে' এটিকে 'ভুয়া' বলে আখ্যায়িত করছেন। যেমনটি দেখা যাবে নিচের এই স্ক্রিনশটগুলোতে--

বিতর্কের প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জোরালোভাবে বলেছেন, “ট্রাম্পের চিঠি নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী”। দেখুন স্ক্রিনশটে--



কিন্তু বাস্তবতা কী? ট্রাম্প কি প্রধানমন্ত্রীকে ‘অভিনন্দন’ জানিয়েছেন? নাকি চিঠিটি ভুয়া?

শুক্রবার রাতে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হওয়ার পরপরই ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে যোগাযোগ করে bdfactcheck.com. তখন দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়, সপ্তাহিক ছুটির কারণে রোববারের আগে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

আজ রোববার দূতাবাসের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা bdfactcheck.com কে নিশ্চিত করেন, এটি কোনো ভুয়া চিঠি নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বার্তা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় (২২-২৪ জানুয়ারি) হস্তান্তর করা হয়।

চিঠিতে Myanmar এর স্থলে Burma শব্দের ব্যবহারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে দূতাবাসের ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা ঢাকা থেকে কোনো ক্ষেত্রে Myanmar এর নামের ক্ষেত্রে Myanmar শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু স্টেট ডিপার্টমেন্ট বা ডিসি (ওয়াশিংটন) থেকে Myanmar এর বদলে প্রায়ই Burma ব্যবহার করা হয়।

সংবাদমাধ্যমে চিঠির আংশিক ও ভুল উপস্থাপনা:

বাংলাদেশি বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যমে চিঠি সংক্রান্ত খবরের শিরোনাম করা হয়েছে, "শেখ হাসিনাকে ট্রাম্পের অভিনন্দন" (বিডিনিউজ বাংলা ভার্সন)। এবং ইংরেজি সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম করা হয়েছে "Trump congratulates Hasina on her re-election" (বিডিনিউজ ইংলিশ ভার্সন)।

কিন্তু বাস্তবে ট্রাম্পের চিঠিতে "Congratulations” বা “Greetings”- এ ধরনের কোনো শব্দের ব্যবহার ছিল না। চিঠির প্রথম বাক্যটিতে শুধুমাত্র বলা হয়েছে, “I wish you a successful third term as Prime Minister of the People's Rebublic of Bangladesh.”

অর্থাৎ, “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার তৃতীয় মেয়াদের সাফল্য কামনা করি”।

এছাড়া প্রতিবেদনের ভেতরে চিঠির আংশিক তুলে ধরা হয়েছে (বিডিনিউজ অবশ্য পুরো চিঠি ‍তুলে দিয়েছে)। বিশেষ করে যে অংশে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে নেতিবাচক বক্তব্য এবং সেগুলো তদন্তের দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সে অংশটি অনুবাদে বাদ দেয়া হয়েছে।

চিঠির সংক্রান্ত বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে ডেইলি স্টারের শিরোনামে এই বাক্যটি সবচেয়ে ভালোভাবে প্রতিফলিত হয়েছে (পত্রিকাটি ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের সাথে কথা বলে চিঠির সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে। এক্ষেত্রে অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের মতো সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যের ওপর শতভাগ নির্ভর করেনি ডেইলি স্টার)। পত্রিকাটি শিরোনাম করেছে, “Trump wishes Hasina success in third term”.

স্ক্রিনশট দেখুন--

চিঠির দ্বিতীয় বাক্যটির ভুল অনুবাদ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাতে কিছু পত্রিকায় (যুগান্তর, জনকণ্ঠ) এসেছে।

দ্বিতীয় বাক্যে বলা হয়েছে, “On behalf of the American people, I commend the tens of millions of Bangladeshis who voted, demonstrating their democratic aspirations for the country.”

অর্থাৎ, “দেশের জন্য নিজেদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্খার প্রতিফন ঘটিয়ে যে লাখো কোটি বাংলাদেশি (নির্বাচনে) ভোট দিয়েছেন, তাদেরকে আমেরিকার জনগণের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাতে এর অনুবাদ জনকণ্ঠের প্রতিবেদনে এসেছে এভাবে-- “টানা তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য দেশের যে লক্ষ কোটি জনতা আপনাকে ভোট দিয়েছে, আমি এজন্য আপনাকে সাদর অভিনন্দন জানাচ্ছি।”

স্ক্রিনশট দেখুন--


যুগান্তরের প্রতিবেদনে এসেছে এভাবে-- “আপনার (শেখ হাসিনা) একনাগারে তৃতীয়বার জয়যুক্ত হওয়ার জন্য দেশের যে লক্ষ কোটি জনতা আপনাকে ভোট দিয়েছে, তাদের আমি অভিনন্দন জানাই।”

লক্ষ্যণীয় হল, মূল চিঠিতে বলা হয়নি যে, লাখো কোটি বাংলাদেশি শেখ হাসিনাকে ভোট দেয়ার জন্য তাদেরকে অভিনন্দন জানানো হচ্ছে। বরং বলা হয়েছে, লাখো কোটি বাংলাদেশি ভোটে অংশ গ্রহণ করার জন্য তাদেরকে আমেরিকার জনগণের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হচ্ছে।

ডেইলি স্টার, কালের কণ্ঠ, মানবজমিন এরকম কয়েকটি পত্রিকার প্রতিবেদনে পুরো চিঠির বক্তব্যগুলো এসেছে। কিন্তু যুগান্তর, জনকণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, জাগোনিউজ, বাংলানিউজ ইত্যাদি সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে ‘অভিনন্দন’ (মূল চিঠিতে না থাকা সত্ত্বেও) শব্দটি ব্যবহার করা হলেও চিঠির শেষ প্যারাটি প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষ করে ইংরেজি ভাষার সংবাদমাধমগুলোর শিরোনামে “congratulates” শব্দটির ব্যবহার ছিল বেশ লক্ষ্যণীয়।

নির্বাচিত হওয়ার পর অন্য দুয়েকটি দেশের সরকার/রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে পাঠানো এমন চিঠি অনলাইনে পাওয়া যায়। সেগুলোতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমেই Congratulations শব্দটির ব্যবহার করেছেন।

যেমন--

 

Related Post