কোটা সংস্কারপন্থীদের প্যানেলকে শিবিরের সমর্থন: বিবৃতিটি ভুয়া

10 March, 2019 17:03 PM সামাজিক মাধ্যম

ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাদের প্যানেলকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থন দেয়া সংক্রান্ত একটি কথিত বিবৃতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। মূলত, ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের ফেসবুক পেইজ থেকে এটি পোস্ট ও শেয়ার করা হচ্ছে।

যদিও শিবিরের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো বিবৃতি দেয়ার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। ডেইলি স্টারের আজ রাতের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে--

"ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেছে যে এই নির্বাচনে তারা কাউকে সমর্থন দেননি। ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে সাইফুল ইসলাম নামের একজনের স্বাক্ষর দেওয়া বিজ্ঞপ্তিটি কে বা কারা প্রথম ফেসবুকে আপলোড করে সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক কামরুল হাসান, বলেন এই প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণ ভুয়া। আমরা এই ধরনের কোনো প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কাউকে সমর্থন দেইনি। ছাত্রশিবিরের ইতিহাসে কখনোই দপ্তর সম্পাদকের নামে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় না। প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় প্রচার সম্পাদকের নামে। সাইফুল ইসলাম নামে আমাদের কোনো দপ্তর সম্পাদক নেই।"

deshreview.com একটি অনলাইন পোর্টালে ছাত্রশিবিরের কথিত বিবৃতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। অবশ্য এ প্রতিবেদনটি গতকাল ৯ মার্চ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটির শিরোনাম, "নুরু-রাসেদ-ফারুকের জন্য ছাত্রশিবিরের বিবৃতি"।

দেখুন স্ক্রিনশট--



ছাত্রশিবিরের প্যাডে কথিত বিবৃতিতে তারিখ দেয়া '১০ মার্চ ২০১৯ খ্রিঃ'। অর্থাৎ আজ রোববার বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়েছে।

কিন্তু মজার বিষয় হলো, আজ প্রকাশিত ছাত্রশিবিরের কথিত বিবৃতিতে প্রথম যে প্যারাটি রয়েছে তা গতকাল প্রকাশিত deshreview.com এর রিপোর্টে হুবহু তুলে দেয়া হয়েছে! একদিন পরে ছাত্রশিবিরের প্রকাশিত বিবৃতি একদিন আগে একটি অনলাইন পোর্টাল প্রকাশ করে কিভাবে?!

আরও মজার বিষয় হল, deshreview.com এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাত্রশিবির বিবৃতিটি গণমাধ্যমে নাকি পাঠিয়েছে গত শুক্রবার। তার অর্থ দাঁড়ায়, deshreview.com এর কাছে ছাত্রশিবিরের বিবৃতি আসে ছাত্রশিবির তা প্রকাশ করার ২ দিন আগে!

স্ক্রিনশটে দেখুন প্রকাশের সময়--


শিবিরের কথিত বিবৃতি ও প্রকাশের সময়--


ছাত্রশিবিরের কথিত বিবৃতি আর deshreview.com এর প্রকাশিত রিপোর্টে হুবহু মিলে যাওয়া প্যারাটি হল--

“প্রতিষ্ঠার পর থেকে ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছে এবং ছাত্রসমাজের ভোটে ভিপি, জিএস ও এজিএসসহ বিভিন্ন পদে বিপুল ভোটে বিজয়লাভ করেছে। ১৯৭৯ সালে তাহের-কাদের পরিষদ, ১৯৮০ ও ১৯৮২ সালে এনাম-কাদের পরিষদ, ১৯৮৯ সালে শামসুল-আমিন পরিষদ ও ১৯৯০ সালে আমিন-মুজিব পরিষদ নিয়ে ডাকসুর প্রতিটি নির্বাচনে ছাত্রশিবির অংশগ্রহণ করে এবং বিভিন্ন পদে বিজয় লাভ করে।"

দেখুন স্ক্রিনশটে--

যদিও, deshreview.com এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, "শুক্রবার গণমাধ্যমে এই যৌথ বিবৃতিটি পাঠিয়েছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোবারক হোসেন ও সেক্রেটারী জেনারেল সিরাজুল ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির সভাপতি মোহাম্মদ শরফুদ্দিন ও সাধারন সম্পাদক আহসান আব্দুল্লাহ।"

কিন্তু ফেসবুকে ছড়ানো ও ১০ মার্চ প্রকাশিত বিবৃতিতে স্বাক্ষর রয়েছে দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলামের (শিবির ডেইলি স্টারকে বলেছে তাদের এই নামের কোনো দপ্তর সম্পাদক নেই)।

শিবির কোনো বিষয়ে বিবৃতি দিলে তা তাদের ওয়েবসাইটে (bangla.shibir.org.bd) তা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু আজ ১০ মার্চ অথবা শুক্রবার ৮ মার্চ ডাকসু সংক্রান্ত কোনো বিবৃতি নেই। সর্বশেষ বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়েছে গত ৪ ফেব্রুয়ারি "ছাত্রশিবিরের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ডাক" শিরোনামে।

গুগলে বাংলা ইংরেজি দুই ভাষায় সার্চ করেও কোনো সংবাদমাধ্যমে শুক্রবারের কোনো বিবৃতি বা ডাকসু ইস্যুতে শিবিরের কোনো বিবৃতির খবর পাওয়া যায়নি।

জনৈক অমিত কুমার বসু সম্পাদিত deshreview.com তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা শুক্রবারের বিবৃতিটি (যার বক্তব্য হুবহু মিলে যায় আজ রোববার প্রকাশিত বিবৃতির সাথে) কোথা থেকে পেয়েছে তা জানতে bdfactcheck.com এর পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। ওয়েবসাইটটিতে দেয়া +৮৮-০২-৯৬৭১৪৫৬(৭) ফোন নম্বরে এবং তাদের ফেসবুক পেইজে দেয়া 01993-342124 মোবাইল নম্বরে কল করে উভয়টিই বন্ধ পাওয়া গেছে।

সিদ্ধান্ত:

ফেসবুকে ছড়ানো বিবৃতিটি প্রথম কোথায় এবং কখন আপলোড করা হয়েছে তা চিহ্নিত করা যায়নি। কিন্তু যেহেতু এটি আজকের তারিখে (১০ মার্চ) প্রকাশিত এবং এটির বক্তব্য হুবহু deshreview.com এর গতকাল প্রকাশিত রিপোটের সাথে মিলে যায়। এ থেকে ধারণা করা যায়, ওই রিপোর্টটি অনুসরণ করেই আলোচ্য বিবৃতিটি তৈরি করা হয়েছে (সাথে আরও কিছু কথা যোগ করে)। উপরিউক্ত বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের পর বিবৃতিটির বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে এটি ভুয়া। 

Related Post