ফ্যাক্টচেক: শাইখ আহমাদ কে? তিনি কিভাবে 'বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী'?

18 March, 2019 08:03 AM গণমাধ্যম

কদরুদ্দীন শিশির

বাংলাদেশের মূলধারার কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে গত শনিবার (১৬ মার্চ) একটি খবর প্রকাশিত হয়-- "জার্মান ক্বিরাত সম্মেলনে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী" (একুশে টিভি অনলাইন)। দেখুন স্ক্রিনশট--

যুগান্তর অনলাইনে প্রথমে শিরোনাম করা হয়- "জার্মান সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী"। একই শিরোনাম করেছে ঢাকা টাইমস নামে আরেকটি অনলাইন পোর্টাল। যদিও আলোচ্য শিরোনামে 'জার্মান' শব্দটির ব্যবহার ভুল; সঠিক শব্দ হবে, 'জার্মানি'।

পরে অবশ্য যুগান্তর তাদের শিরোনাম ও রিপোর্ট থেকে 'বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী' শব্দগুলো বাদ দিয়েছে। (তবে 'জার্মান' শব্দটি সংশোধন করা হয়নি)। যুগান্তরের সংশোধিত রিপোর্টটি পড়ুন এখানে:

মূলধারার সংবাদমাধ্যমে 'বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী' পদবীটির ব্যবহার দেখে bdfactcheck.com এর খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করে আদৌ এরকম কোনো পদবী বাংলাদেশে স্বীকৃত আছে কিনা? বা থাকলেও কোন প্রক্রিয়ায় কাউকে 'বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী' হিসেবে ঘোষণা করা হয়, এবং কোন কর্তৃপক্ষ এটি করে থাকে?

অনলাইনে সার্চ করে পাওয়া যায় ২০১৮ সালের জুলাই মাসের এক একটি খবর। বেশ কয়েকটি বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটে খবরটি প্রকাশিত হয়েছে। এনটিভির এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি দেখুন নিচের স্ক্রিনশটে--



বাংলানিউজ, পরিবর্তন ডটকম, ইত্যাদি আরও বেশ কয়েকটি পোর্টালেও একই খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

এনটিভির প্রতিবেদনটিতে যেসব দাবি করা হয়েছে তার মধ্যে নিচের দুটি দাবির সত্য-মিথ্যা আমরা যাচাই করে দেখার চেষ্টা করবো--

১.

কোরআন তেলাওয়াত সংস্থা (ইক্বরা) বা International Quran Recitation Association (IQRA)-কে বলা হয়েছে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। আসলেই এটি আন্তর্জাতিক সংস্থা?

২.
ittehadul qurra al alamia নামে আরেক আন্তর্জাতিক সংস্থা শাইখ আহমাদকে 'বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী' হিসেবে মনোনীত করেছে। এবং এই ittehadul qurra al alamia হচ্ছে Arab league এর অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান। আসলেই কি এটি Arab league এর অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান?

এর বাইরেও কিছু প্রশ্নের উত্তর আমরা খুঁজবো। সেগুলো হলো--

#বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে 'প্রধান ক্বারী' মনোনয়ন/নির্বাচন করা হয় কিনা?

#দেশের ক্বারী সমাজে 'বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী' বলতে কোনো পরিভাষা বা পদবী ব্যবহারের প্রচলন আছে কিনা?

#কোন প্রক্রিয়ায় 'বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী' হিসেবে তিনি মনোনীত হলেন?


শাইখ আহমাদ বিন ইউসুফ কে?

তিনি বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক ক্বারী ইউসুফ বিন ইব্রাহিমের ছেলে। ক্বারী ইউসুফ বিন ইব্রাহিমকে 'বেতারের প্রধান ক্বারী' হিসেবে IQRA নামক সংস্থার ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। bdfactcheck.com কয়েকজন সিনিয়র ক্বারীর সাথে কথা বলেছে। তারা সবাই ক্বারী ইউসুফ বিন ইব্রাহিমকে 'বেতারের সাবেক প্রধান ক্বারী' হিসেবে জানেন বলে জানিয়েছেন। এবং আরও বলেছেন, বছর খানেক আগে মারা যাওয়া জনাব ইউসুফ ক্বারী হিসেবে বেশ সুনাম অর্জন করেছিলেন এবং ক্বারী সমাজেও তিনি সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন।

IQRA কি আন্তর্জাতিক, না পারিবারিক সংস্থা?

International Quran Recitation Association (IQRA) বা আন্তর্জাতিক কোরআন তেলাওয়াত সংস্থা (ইক্বরা) এর ওয়েবসাইটের ঠিকানা হচ্ছে- www.iqrabd.org.

সংস্থাটির নামের প্রথম শব্দ হলো International কিন্তু ওয়েবসাইটের নামের সাথে bd মানে Bangladesh যুক্ত! কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার-- অর্থাৎ বহু দেশ যেটিতে অন্তর্ভূক্ত-- সেটির ওয়েবসাইটের নামে কোনো এক বিশেষ দেশের নাম থাকার বিষয়টি খুবই অস্বাভাবিক ও অদ্ভুত!

সংস্থাটির ওয়েসাইটে দেখা যাচ্ছে, এটির অফিস পুরান ঢাকার লালবাগের একটি বাড়ির ঠিকানায়। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হলেন ক্বারী ইউসুফ ইবনে ইব্রাহিম এবং বর্তমান সভাপতি হচ্ছেন তারই বড় ছেলে ক্বারী শাইখ আহমাদ বিন ইউসুফ (আল আজহারি)। শাইখ আহমাদের ছোট ভাই খালিদ বিন ইউসুফ সহ-সভাপতি, এবং আরেক ছোট ভাই হারেস বিন ইউসুফ হলেন যগ্ম মহাসচিব।

মহাসচিব হিসেবে সাখাওয়াত খান নামে একজনের ছবি রয়েছে । আর আন্তর্জাতিক মহাসচিব হিসেবে দেয়া মিশরের ক্বারী ডা. আহমদ নায়ীনের নাম। যদিও সেক্রেটারি সাখাওয়াত এবং মিশরীয় ক্বারী ও চিকিৎসক আহমদ নায়ীনের কোনো যোগাযোগসূত্র ওয়েবসাইটে দেয়া নেই (ইক্বরা কর্তৃপক্ষের কাছে ক্বারী নায়ীনের যোগাযোগের নম্বর বা ইমেইল চাওয়া হলে তারা জানিয়েছেন তিনি ব্যস্ত থাকেন এবং আরবী ছাড়া অন্য কোনো ভাষা বুঝেন না)।

ওয়েবসাইটের নিচে একটি ফোন নম্বর ও তিনটি মোবাইল নম্বর দেয়া আছে। তিনটি মোবাইল নম্বর শাইখ আহমাদ ও তার দুই ভাইয়ের ব্যক্তিগত নম্বর। সেগুলোতে কল করলে শাইখ আহমাদের ছোট ভাই খালিদ বিন ইউসুফ রিসিভ করেন এবং তিনি জানান এগুলো তাদের তিন ভাইয়ের নম্বর।

ক্বারী আহমদ নায়ীন যেহেতু সংস্থার আন্তর্জাতিক সেক্রেটারি, তাহলে তার যোগাযোগের কোনো নম্বর বা ইমেইল নিশ্চয়ই আছে আপনাদের কাছে। আমাদেরকে একটু দেয়া যাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে খালিদ বিন ইউসুফ বলেন, তিনি তো খুব ব্যস্ত থাকেন। ইক্বরা'র সভাপতি (তার বড় ভাই) এর সাথে কথা বলতে পারেন।

রোববার দুপুরে শাইখ আমহামের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে (০১৯১১------) যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। জানান, ইক্বরা একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। আরব লিগের অধীনে এটি চলে। ইক্বরার সদস্য দেশের সংখ্যা ২৬টি।

২৬টি দেশের একটি সংস্থার ওয়েবসাইট বাংলাদেশের নামে (bd) কেন? কার্যনির্বাহী কমিটিতে আপনাদের পরিবারের লোকজনই কেন বেশি? এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, আমার বাবা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনিই তাকে (ক্বারী ইউসুফকে) 'বাংলাদেশ বেতারের প্রধান ক্বারী' হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ইক্বরা আমার বাবা প্রতিষ্ঠা করেছেন। বাংলাদেশের ক্বারীদের মূল সংগঠন এটিই।

আপনি কি বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জ্বি আমি বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী। কিভাবে আপনি এই পদবী পেলেন? শাইখ আহমাদ উত্তরে বলেন, গত বছর এপ্রিল মাসে বাবা মারা যাওয়ার পর মিশর ভিত্তিক ittehadul qurra al alamia বাবার স্থলে আমাকে 'বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী' হিসেবে নিয়োগ দেয়। সংস্থাটি আরব লিগের অধীনে চলে। কায়োরেতে তাদের অফিস।

বাইরের একটি সংস্থা কিভাবে 'বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী' কে হবেন তা নির্ধারণ করে? বা কী প্রক্রিয়ায় করা হয়েছে এটি? আর আপনার বাবা তো ছিলেন 'বেতারের প্রধান ক্বারী', তিনি মারা যাওয়ার পর আপনাকে 'বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী' হিসেবে নিয়োগ দেয়ার কারণ কী? 'বেতারের প্রধান ক্বারী' আর 'বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী' কি এক বিষয়?

শাইখ আহমাদ জবাবে বলেন, তারা শুধু বাংলাদেশে নয়, বিভিন্ন দেশের প্রধান ক্বারী নিয়োগ দিয়ে থাকে। প্রশ্নের এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শাইখ আহমাদ।

ফোনের ওপর প্রান্ত থেকে উচ্চস্বরে তিনি বলতে থাকেন, "এ প্রশ্নগুলো কেন আসছে? ওহ আমি বুঝতে পারছি। ক্বারী হিসেবে পরিচিত কিছু কুলাঙ্গার আমার বিরুদ্ধে এসব শুরু করেছে। সরি টু সে। আমি ওই কুলাঙ্গারদের চিনি।..." বলে ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

দুপুরে শাইখ আহমাদ উত্তেজিত অবস্থায় ফোন রেখে দেয়ার পর সন্ধ্যায় IQRA এর মিডিয়া বিভাগের কর্মী পরিচয়ে 'নুর সবুজ' নামে একজন ফোন করেন। তিনি শাইখ আহমাদকে "বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী" নিয়োগের বিষয়টির ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশর সরকারের পক্ষ থেকে ওইভাবে কাউকে 'প্রধান ক্বারী' নিয়োগ দেয়া হয় না, যেমনটা অনান্য দেশে রয়েছেন। তাই মিশরের ওই সংস্থা শাইখ আহমাদকে নিয়োগ দিয়েছে। যাতে তিনি তাদের ক্বেরাতের উন্নয়নে কাজ করতে পারেন।

নুর আরও বলেন, 'উনি (শাইখ আহমাদ) আপনার সাথে কোনো খারাপ আচরণ করে থাকলে দুঃখিত। উনার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকায় একটু টেনশনে ছিলেন। তাই হয়তো কিছু বলে থাকতে পারেন।'

এরপর ইমেইলে শাইখ আহমাদের বিভিন্ন দেশ সফরের এবং সেসব দেশে কোথাও রাষ্ট্রপ্রধান কোথাও গণমান্য ব্যক্তিদের সাথে তোলা কিছু ছবি এবং ইউটিউবে তার ক্বেরাতের কিছু ভিডিও পাঠান। কথা বলে এবং এসব ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে জনাব নুর সবুজ এই ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছেন যে, শাইখ আহমাদ একজন ভালো এবং উঁচুমানের ক্বারী।

এ বিষয়ে bdfactcheck.com এর বক্তব্য হলো, শাইখ আহমাদ একজন ভালো বা উঁচুমানের ক্বারী কিনা সেই প্রশ্ন আমরা তুলছি না। আমরা শুধু খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছি তাকে 'বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী' নিয়োগের বিষয়টি।

ইক্বরার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে এটি ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত। এবং ১৯৯১ সালের দিকে আবার নতুন করে বাংলাদেশে কাজ শুরু করে। ওয়েবসাইটে উপদেষ্টা পরিষদের সদ্যস হিসেবে কয়েকজন বিদেশি ক্বারীর নাম দেয়া রয়েছে।

ক্বারী সমাজ কী বলছেন?

বাংলাদেশে ক্বারীদের সবচেয়ে বড় সংগঠনের নাম "বাংলাদেশ ক্বারী সমিতি", যেটি ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত। শাইখ আহমাদের বাবা মরহুম ক্বারী ইউসুফ এবং আরেক কিংবদন্তী মরহুম ক্বারী উবায়দুল্লাহ এই সংগঠনটির উপদেষ্টা ছিলেন। বর্তমানে দেশের শীর্ষ স্থানীয় ক্বারীরাও এটির সাথে সংশ্লিষ্ট। ক্বারী হাবিবুল্লাহ বেলালী, ক্বারী গোলাম মোস্তফাসহ বর্ষীয়ান ক্বারীরা এটির উপদেষ্টা পরিষদে আছেন।

বর্তমান বাংলাদেশ ক্বারী সমিতির সভাপতি হলেন ক্বারী মাওলানা হাবিবুর রহমান। তার কাছে "বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী" বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এরকম কোনো স্বীকৃত পদ-পদবী বাংলাদেশে নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে কাউকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এরকম উপাধি দেয়া হয়নি। শুনেছি কেউ একজন এটা ব্যবহার করে থাকেন। উনি কিভাবে দেশের প্রধান ক্বারী হলেন সেটা জানি না। কোনো পরীক্ষা, প্রতিযোগিতা বা বিশেষজ্ঞ প্যানেলের যাচাই বাছাইয়ের পর এমনটা হয়েছে কিনা তাও জানি না। দেশে অনেক সিনিয়র ও আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কৃত ক্বারী আছেন। তারা কেউই নিজেদেরকে 'প্রধান ক্বারী' দাবি করেননি কখনো। যিনি দাবি করছেন আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিযোগিতায় তিনি বড় কোনো অর্জন করেছেন এমনটাও কিন্তু নয়।

International Quran Recitation Association (IQRA) এর ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ক্বারী হাবিবুর রহমান বলেন, এটা শুনেছি স্বাধীনতার আগে প্রতিষ্ঠিত। তবে ৯১ সালের দিকে যখন ক্বারী ইউসুফ সাহেব এই ব্যানারে একটি সম্মেলন আহ্বান করেন আমি তখন উনার সাথে কাজ করেছি। সম্মেলন আয়োজন কমিটির সদস্য সচিব ছিলাম আমি। পরে কয়েকবার এই একই ব্যানারে কিছু প্রগ্রাম করেছিলেন ক্বারী ইউসুফ সাহেব। মাঝখানে বহু বছর এটির আর কোনো কার্যক্রম ছিল না। কিছুদিন ধরে উনার বড় ছেলে শাইখ আহমাদ আবার এটা সক্রিয় হয়েছেন।

ক্বারী হাবিবুর রহমান বলেন, কখনো IQRA-এর কোনো সাংগঠনিক কাঠামো ছিলো না। এটি একান্তই ব্যক্তি বা পরিবারকেন্দ্রিক একটি ব্যানার। আগে ইউসুফ সাহেব চালিয়েছেন, এখন উনার ছেলেরা চালাচ্ছেন। এর সাথে বাংলাদেশের মূলধারার ক্বারীদের সাংগঠনিকভাবে সংশ্লিষ্টতা নেই।

ঢাকার তিনটি মাদ্রাসার তিনজন শিক্ষককে- যারা আবার সনদপ্রাপ্ত ক্বারী- bdfactcheck.com এর পক্ষ থেকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আপনি International Quran Recitation Association (IQRA) সম্পর্কে কী জানেন? তাদের একজন কিছু বলতে রাজি হননি। অন্য দুইজন বলেছেন, এটি ক্বারী ইউসুফ সাহেবের ছেলের সংগঠন বলে জানি। উনি চালাচ্ছেন। তারা মাঝে মাঝে প্রগ্রাম করেন।

যাত্রাবাড়ীর একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ক্বারী মাহমুদুল হাসান বলেন, মূলধারার ক্বারীরা এই সংগঠনের সাথে নেই। পারিবারিকভাবে ঘনিষ্ঠ কয়েকজন থাকতে পারেন। উনারা কাউকে ডাকেনও না। ক্বারীদের এরকম আরও সংগঠন আছে। তবে সবচেয়ে বড়টি হলো বাংলাদেশ ক্বারী সমিতি।

সরকারি কর্তৃপক্ষ কী বলছে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মুফতী মাওলানা ওয়ালীয়ুর রহমান খান জানিয়েছেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বা সরকারের অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কখনো কাউকে 'বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী' হিসেবে মনোনীত করেনি। এ ধরনের কোনো পদবী নেই। তবে অনেককে দেখেছি ব্যক্তিগতভাবে নিজেদের নামের সাথে এমনটা লিখে থাকেন।

ittehadul qurra al alamia আসলে কারা?

এনটিভির সংবাদ প্রতিবেদনে এবং IQRA এর ওয়েবসাইটে (ভুল এবং অসংলগ্ন ইংরেজিতে) দাবি করা হয়েছে, শাইখ আহমাদকে 'বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী' নিয়োগ দিয়েছে ittehadul qurra al alamia নামক একটি সংস্থা। ইন্টারনেটে সার্চ সংস্থাটির ওয়েবসাইট বা কোনো ধরনের ঠিকানার সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে মিশরীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের (আরবী ভাষার) প্রতিবেদনে সংস্থাটির নাম ও কিছু কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেছে। ittehadul qurra al alamia মূল সংগঠনের নাম হচ্ছে, Organization of Arab Peoples and Parliaments.

আরবীতে- منظمة الشعوب العربية والبرلمانات العربية (মানজামাতুস শুয়ু'ব আল-আরাবী আল বারলামেন্ত আল-আরাবী)। এই সংস্থাটির প্রধানের দায়িত্বে আছেন, আব্দুল আজিজ আব্দুল্লাহ হামাদ। IQRA এর ওয়েবসাইটেও বলা আছে এই ব্যক্তির পক্ষ থেকেই শাইখ আহমাদকে 'বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী' ঘোষণা করেছেন ittehadul qurra al alamia এর প্রেসিডেন্ট ক্বারী ডা. আহমদ নায়ীন।

মিশরীয় পত্রিকাগুলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, ittehadul qurra al alamia এর মূল সংগঠন Organization of Arab Peoples and Parliaments এর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। আরব লীগ গত বছর ১৯টি সংগঠনের তালিকা প্রকাশ করে যারা "আরব লীগের অধীনে কাজ করছে" বলে দাবি করে বিভিন্ন প্রচারণা চালায়। এই ১৯ সংগঠনের তালিকায় ৩ নম্বরে নাম রয়েছে Organization of Arab Peoples and Parliaments এর। দেখুন স্ক্রিনশটে--

এই সংগঠনগুলোর ব্যাপারে সচেতন থাকতে সবাইকে পরামর্শ দিয়েছে আরব লীগ। খবরটি পড়ুন এখানে
দেশগুলোর এই সংস্থাটি।

Related Post