বোনের সঙ্গে কি নেইমারের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে?

01 November, 2019 03:11 AM গণমাধ্যম

ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদক:

বোনের সঙ্গে নেইমারের অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক রয়েছে কি না তা যাচাইয়ের জন্য গত এক সপ্তাহে বিডি ফ্যাক্টচেক- এর কাছে বেশ কিছু অনুরোধ এসেছে। দৈনিক যুগান্তরসহ বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যমে বোনের সঙ্গে নেইমারের  অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে বলে খবর ছড়িয়েছে। 

দৈনিক যুগান্তর শিরোনাম করেছে, বোনের সঙ্গে নেইমারের অবৈধ সম্পর্ক, ছবি ভাইরাল। অনলাইন সার্চে দেখা যাচ্ছে অন্তত ২০ টির বেশি গণমাধ্যম এটি নিয়ে সংবাদ প্রচার করেছে। তবে অধিকাংশই দৈনিক যুগান্তরের সংবাদটির হুবহু কপি করেছে। তবে দৈনিক যুগান্তরে এই  সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৮ সালের ২৫ জুন। সেখান থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটি নতুন করে ছড়াচ্ছে। 

যা দাবি করা হচ্ছে:

দৈনিক যুগান্তরের ওই নিউজে বলা হচ্ছে, “বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নেইমার ও তার বোন রাফায়েলার অতিঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ভাইয়ের সঙ্গে তার সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আপত্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। 

নেইমার তার নিজের বোনের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িত বলে দাবি করা হচ্ছে ওইসব সংবাদ মাধ্যমে।  ফলে এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সাইডওমেক্স এন্টারটেইনমেন্ট নামের একটি অনলাইন মিডিয়ার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নেইমার ইনসেস্ট! (রক্তসম্পর্কের মধ্যে যৌনতা)। 

তাদের সংবাদে বলা হয়েছে, নেইমার নিজের গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে খোলাখুলি থাকলেও বোনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে চরম গোপনীয়তা পালন করেন।”

উৎপত্তি:

এই গুজবের উৎপত্তি নেইমারের বোন রাফায়েলার ভেরিফাইড টুইটার আইডি থেকে। ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাফায়েলা নেইমারকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে লিখেন, ”The best love. The best affection. The best smile... And what a smile! Happy birthday!!! With Love, black.”

সেই সাথে উভয়ের একটি ছবিও পোস্ট করেন। এই টুইটটিই Andres নামক একজন রিটুইট করে লিখেন, “Neymar and his sister are incest.” এখান থেকেই মূলত স্যাটায়ার মিডিয়াগুলো এটা লুফে নেয়। 

কোনো মূলধারার গণমাধ্যম সংবাদটি ছাপে নি:

“নেইমার ইনসেস্ট” কী ওয়ার্ড দিয়ে গুগল সার্চ করলে প্রথম যে সংবাদটি আসে সেটি হচ্ছে, “সকার অন সানডে” গণমাধ্যমের একটি সংবাদ। তাদের শিরোনাম, “Neymar Comforted by Sister After UTD Loss, in Jacuzzi”. সংবাদের ভিতরে কোথাও বলা হয়নি তাদের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। এবার আসি সকার অন সানডে কোন ধরণের গণমাধ্যম। সকার অন সানডে তাদের ওয়েবসাইটে নিজেদের সম্পর্কে বলছে, “Soccer on Sunday is a satirical magazine. Other than when satirising public figures, all names are invented and overlap only coincidentally with real individuals.”

গুগল সার্চ করে একমাত্র সকার অন সানডে ছাড়া আর কোনো গণমাধ্যমে সংবাদটি কিংবা এর কাছাকাছি কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। অতএব যুগান্তর যে দাবি করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নেইমার ও তার বোন রাফায়েলার অতিঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তা অসত্য। 

সাইডওমেক্স কোন ধরণের প্রতিষ্ঠান?

দৈনিক যুগান্তর দাবি করেছে, সাইডওমেক্স এন্টারটেইনমেন্ট নামের একটি অনলাইন মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেইমার ইনসেস্ট! (রক্তসম্পর্কের মধ্যে যৌনতা)। কিন্তু সাইডওম্যাক্স এন্টারটেইনমেন্টে এ ধরণের কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। আর সাইডওম্যাক্স এন্টারটেইনমেন্ট সংবাদ মাধ্যমই না।  ওয়েবসাইটি নিজেদের সম্পর্কে বলেছে

”Welcome to Sidomex Entertainment, your one stop channel for online entertainment gist. We are an offshoot of Sidomex Universal Limited, your movie production company. We shall be publishing for your delight, trending and enlightening information on movies, books, sports, celebrity happenings and allied entertainment gist; using a mix of videos, images, infographics and blog posts.”

অর্থাৎ এটি একটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা কোম্পানি। এর পাশাপাশি তারা চলচ্চিত্র, বই, খেলাধুলা ও সেলিব্রেটিদের নিয়ে তথ্য প্রদান করে জনসাধারণকে বিনোদিত করে। 

ছবি কি প্রমাণ করে?

প্রতিবেদনের সাথে নেইমার ও রাফায়েলার যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে তা ব্রাজিলিয়ান সংস্কৃতির সাথে মিল রেখে বিশ্লেষণ করলেও দু’জনের মধ্যে সে ধরণের কোনো অবৈধ সম্পর্কের সিদ্ধান্তে আসা যায় না। টুইটারে ব্রাজিলের এমিরাউট নামক একজন মন্তব্য করেন, “In Brazilian culture brothers and sisters are extremely close to each other and while it may look like incest to the rest of you, it certainly isn’t. Have a good day.”

অতএব, ছবিটি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সে দেশের সংস্কৃতি অনুযায়ী ছবিটিকে বিবেচনা করতে হবে।

সিদ্ধান্ত: 

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বোনের সঙ্গে নেইমারের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে বলে দৈনিক যুগান্তর যে সংবাদ প্রকাশ করেছে তা বাইরের কোনো গণমাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

 

তথ্যসূত্র: 

Andres (2017). Neymar and his sister are incest. নেয়া হয়েছে,  https://twitter.com/andres_3m/status/926520007755829248?lang=en

Neymar Comforted by Sister After UTD Loss, in Jacuzzi (তারিখ পাওয়া যায়নি)। সকার অন সানডে। নেয়া হয়েছে, https://socceronsunday.com/article/neymar-comforted-by-sister-after-utd-loss-in-jacuzzi/

সাইডওমেক্স এন্টারটেইনমেন্ট, (2018)। নেয়া হয়েছে, https://www.sidomexentertainment.com/contact/

 

Related Post