ফের ভূয়া সংবাদ, ‌‘আস্থার সাথে’ ছড়াচ্ছেন উচ্চশিক্ষিতরা!

15:03 PM সামাজিক মাধ্যম

কদরুদ্দীন শিশির

বাংলাদেশে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য (disinformation) ছড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে ‘খ্যাতি’ অর্জন করা অনলাইন পোর্টাল ‘বাংলাইনসাইডার’ নতুন করে একটি ভূয়া সংবাদ পরিবেশন করেছে।

“শেখ হাসিনা: বিশ্বের সবচেয়ে মিতব্যয়ী সরকারপ্রধান” শিরোনামের ওই ভূয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, “বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের রোল মডেল হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত অগ্রসরমান দেশগুলোর একটি আজ বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের সরকারপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে সবচেয়ে কম বেতনের প্রধানমন্ত্রী। মিতব্যয়ীটাতেও তিনি বিশ্বসেরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের সরকার প্রধানদের মধ্যে সবচেয়ে কম খরচে চলেন। পিপলস অ্যান্ড পলিটিক্স এর গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছ।”

অস্তিত্বহীন সংগঠনের ভুয়া গবেষণার বরাতে ভূয়া প্রতিবেদন

কেন এই প্রতিবেদনটি ভূয়া?


প্রথমত: www.bdfactcheck.com- এর আগের একাধিক অনুসন্ধানে আমরা দেখিয়েছি যে, ‘পিপলস অ্যান্ড পলিটিক্স’ নামে কোনো সংস্থার অস্তিত্ব নেই। কারো কল্পনায় এমন সংগঠন বিরাজ করলেও অন্তত গুগলে এ নামের কোনো সংগঠন/সংস্থা খুঁজে পাওয়া যায় না। ফলে অস্তিত্বহীন কোনো সংগঠনের বরাতে কিছু বললে তা ভূয়া না হয়ে পারে না।

এ সংক্রান্ত আমাদের আগের অনুসন্ধান পড়ুন: অস্তিত্বহীন সংগঠনের নামে 'শেখ হাসিনার সততা'র প্রচারণা

দ্বিতীয়ত: বিশ্বের সবচেয়ে মিতব্যয়ী সরকারপ্রধান বলতে কোনো গবেষণা/জরিপ ইত্যাদির অস্তিত্ব গুগল সার্চ করে পাওয়া যায়নি। বাংলাইনসাইডারের ইংরেজি ভার্সনে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়েছে “Sheikh Hasina: World`s most inexpensive head of govt”. এই শিরোনাম এবং এটির কীওয়ার্ড গুলো দিয়ে গুগল সার্চ করে কোনো তথ্য মিলেনি।

অর্থাৎ, গত দুই বছর ধরে আরও বহু বানোয়াট প্রতিবেদনের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে এটিও একটি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রচারিত ভুল সংবাদ।

মজার বিষয় হল, এই ভূয়া সংবাদটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়াচ্ছে ‘ফোর-জি’ গতিতে! এবং সমাজের নানা পেশার উচ্চশিক্ষিত মানুষজন এটিকে ‘পূর্ণ আস্থার সাথে’ ফেসবুকে শেয়ার করছেন। ফেসবুকে “শেখ হাসিনা: বিশ্বের সবচেয়ে মিতব্যয়ী সরকারপ্রধান” শিরোনামটি সার্চ দিয়ে এমন লোককে পাওয়া গেছে যারা পেশায় রাজনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা এবং ডাক্তার- “শ্রদ্ধায় মাথা অবনত”, “জয়তু”, “নো ডাউট”, “ভালোবাসা” ইত্যাদি শব্দ-বাক্য সংযোগে ভূয়া সংবাদটির প্রতি নিজের আস্থা-বিশ্বাস ও ভালোবাসা প্রকাশ করে শেয়ার করেছেন।

এছাড়া কপি-পেস্ট করে অন্যান্য কিছু ভুঁইফোড় অনলাইন পত্রিকা তো আছেই ভূয়া সংবাদ ছড়ানোর জন্য।

৮ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সামাজিক মাধ্যমে কিভাবে, কতটা আস্থার সাথে শেয়ার হচ্ছে তার কিছু নমুনা নিচের স্ক্রিনশটগুলোতে তুলে ধরছি-- (শেয়ার করা লিংকের সাথে যুক্ত করা টেক্সট, পোস্টের নিচে কমেন্ট ও লাইক-শেয়ারের সংখ্যা ইত্যাদি লক্ষ্যণীয়)।

এভাবে হাজারো মানুষ ভূয়া সংবাদে লাইক, শেয়ার, কমেন্ট করছেন...

স্থানীয় পত্রিকায়ও বড় আকারে ছাপা হয়েছে ভূয়া খবর।

 

 

Related Post