বাংলাদেশের ওপর ২ বছরের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইসিসিকে চিঠি?

12:03 PM সামাজিক মাধ্যম

কদরুদ্দীন শিশির

একটি খবর হুহু করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়াচ্ছে, এবং সাধারণ ব্যবহারকারীরা সেটি বিশ্বাস করছেন। খবরটিতে বলা হয়েছে দক্ষিন আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাদা বাংলাদেশের ওপর ২ বছরের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইসিসিকে চিঠি দিয়েছেন।

একটি ভূঁইফোড় অনলাইন পোর্টালে "বাংলাদেশকে ২ বছর নিষিদ্ধ করার জন্য আইসিসিকে চিঠি রাবাদার!" শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে--

//
"কিছুদিন আগে অস্ট্রেলিয়ার সাথে টেস্ট খেলার সময় স্টিভেন স্মিথকে আউট করা পর যে সেলিব্রেশন করেন কাগিসো রাবাদা তার জন্য আইসিসি রাবাদাকে ২ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করে।

গতকাল শ্রীলংকাকে হারানোর পর বাংলাদেশের নাগিন ডান্স সেলিব্রেশন তাই মেনে নিতে পারেননি তিনি। তাই নাগিন ডান্স নিয়ে আইসিসিকে পত্র পাঠিয়েছেন দক্ষিন আফ্রিকার এই পেসার। পত্রে তিনি আইসিসির কাছে জানতে চেয়েছেন যে বিষয় গুলো সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।

১। আমার সেলিব্রেশন যদি বাচ্চাদের জন্য অযোগ্য হয় তাহলে বাংলাদেশের সেলিব্রেশন টা কি ঠিক ছিলো?
২। অধিনায়ক সাকিব কিভাবে এমন আচরণ করতে পারে?
৩। আমি কি গ্লাস ভেঙে ছিলাম অথবা কারো সাথে মারামারি?
৪। এই নাগিন ডান্স থেকে বাচ্চারা কি শিখবে?
৫। তারা কি কোবরাকে অপমান করছে না?
৬। আমাকে যদি ২ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়, তাহলে পুরোদলের এমন সেলিব্রেশনের জন্য কি বাংলাদেশকে ২ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার দাবী রাখেনা?

যদি না হয়, তাহলে আমিও এমন সেলিব্রেশন করতে পারবো? আমি নিশ্চিত আমি এর চেয়ে ভালো ডান্সার। আইসিসি আপনার আইন ক্লিয়ার করুন।"
//

ওই অনলাইনের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেইজের স্ক্রিনশট-

 

 

bdfactcheck.com এর অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে খবরটি সম্পূর্ণ ভূয়া।

গুগল সার্চ করে www.cricketcountry.com- এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। আজ ১৭ মার্চ প্রকাশিত Kagiso Rabada queries ICC if ‘Naagin dance’ celebrations are allowed! শিরোনামের প্রতিবেদনের সাথে বাংলাদেশের ছড়ানো খবরটির 'তথ্য' ও 'পয়েন্টগুলো'র মিল রয়েছে।

 

ভারতীয় পত্রিকা www.cricketcountry.com এর প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট দেখুন--

 

 

লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, প্রতিবেদনটির শেষে বোল্ড করা লাল বর্ণে লেখা রয়েছে- "Please note this is a humour article — work of pure fiction". অর্থাৎ, 'নিবন্ধটি মজা করে লেখা হয়েছে- এবং এটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক।'

 

 

কিন্তু বাংলাদেশে বসে যারা প্রতিবেদনটিকে অবলম্বন করে রিপোর্ট তৈরি করেছেন তারা এটিকে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় (এত স্পষ্ট করে লেখা চোখে না পড়া তো অস্বাভাবিক!) শেষের সতর্কতাকে উপেক্ষা করেছেন। এর ফল যা হয়েছে তা খুবই খারাপ। গতকালের উত্তেজনাকর ম্যাচে জয় পাওয়ার পর বাংলাদেশের আবেগপ্রবণ ক্রিকেটভক্তরা আবেগের চুড়ান্ত পর্যায়ে অবস্থান করছেন এই মুহূর্তে। এমন সময় কারো কাছ থেকে এমন 'নিষেধাজ্ঞার দাবি' জানিয়ে আইসিসিকে চিঠি দেয়ার খবর শুনলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হওয়াই স্বাভাবিক।

 

দেখুন তেমন কিছু মন্তব্য-

 

কিছু ভুঁইফোড় অনলাইন পোর্টাল এবং গুজব ছড়ানোয় আগে থেকে 'কুখ্যাত' ফেসবুক পেইজে কিভাবে ভূয়া খবরটি যাচাই বাছাই ছাড়াই ছড়ানো হচ্ছে তার কিছু উদাহরণ--

 

 

Related Post