রিজার্ভ চুরি ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়’: এফবিআই কোন রাষ্ট্রের কথা বলেছে?

31 March, 2018 17:03 PM বিএনপি

কদরুদ্দীন শিশির

প্রথম আলোর ৩১ মার্চের “রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বিএনপির অভিযোগ সত্য: রিজভী” প্রতিবেদনে বলা হয়েছে--

“বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বিএনপি যে অভিযোগ করেছে, তা সত্যি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ শনিবার বেলা সোয়া ১১টায় বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরি হওয়ার ঘটনা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হয়েছে বলে এফবিআই নিশ্চিত করেছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ রিজার্ভ চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে এফবিআই জানিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে আমরা যে অভিযোগ করেছিলাম, সেটিও এখন সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

অন্যান্য সংবাদমাধ্যমেও একই খবর প্রকাশিত হয়েছে।

প্রথমেই বলে নেয়া ভাল, রয়টার্সের এক বছর আগের একটি রিপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশের কিছু সংবাদমাধ্যমের তৈরি করা বিভ্রান্তির প্রেক্ষিতে বিএনপি নেতা রিজভী এই বক্তব্য দিয়েছেন।

 

সংবাদমাধ্যমের তৈরি করা বিভ্রান্তি:

৩০ মার্চ বাংলাট্রিবিউন “রিজার্ভ চুরিতে উত্তর কোরিয়ার ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা’ রয়েছে: এফবিআই কর্মকর্তার ইঙ্গিত” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরে অবশ্য রিপোর্টটি সরিয়ে ফেলা হয়। মূল রিপোর্ট দেখতে ক্লিক করুন এখানে

একই দিন জাগোনিউজ-ও “রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি : এফবিআই” শিরোনামে রিপোর্ট করে। পোর্টালটিও পরে সরিয়ে ফেলেছে তাদের প্রতিবেদন।

দৈনিক যুগান্তর প্রিন্ট ভার্সনে ৩১ মার্চ একই প্রতিবেদন প্রথম পাতায় ছাপা হয় “চুরিতে উত্তর কোরিয়ার ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা” শিরোনামে। অবশ্য যুগান্তর অনলাইন বা ই-পেপার থেকে প্রতিবেদনটি সরায়নি।

এভাবে আরও বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ৩০ এবং ৩১ মার্চ রিপোর্টটি প্রকাশ করেছে। কিন্তু বাস্তবে এটি এক বছর আগের রিপোর্ট। ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ রয়টার্স এফবিআইয়ের এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছিল। তখন বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতেও এ নিয়ে রিপোর্ট হয়েছিল। যেমন দেখুন প্রথম আলো, ডেইলি স্টার।

সম্ভবত সামাজিক মাধ্যমে কেউ রয়টার্সের পুরোনো প্রতিবেদনটি তারিখ না দেখে শেয়ার দিয়েছিলেন ওইদিন। আর সেটা দেখে সংবাদমাধ্যমগুলোও দিন-তারিখ যাচাই না করেই অনুবাদ করে প্রকাশ করে দিয়েছে।

রুহুল কবীর রিজভীর মতো লাখো পাঠক সংবাদমাধ্যমের এই ভূলের কারণে বিভ্রান্ত হয়েছেন। (যদিও কোনো সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে ভুলটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়নি।)

 

রয়টার্স বা এফবিআই কোন রাষ্ট্রের কথা বলেছে?

 

রুহুল কবীর রিজভী তার বক্তব্যে রয়টার্সের বরাতে যে ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা’র কথা বলেছেন তাতে স্পষ্টভাবে ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রী পৃষ্ঠপোষকতা’ বুঝিয়েছেন।

তবে রয়টার্সের আলোচ্য রিপোর্টে তেমনটি বলা হয়নি। “Bangladesh Bank heist was 'state-sponsored': U.S. official” শিরোনামের রিপোর্টে বার্তা সংস্থাটি Lamont Siller নামে এফবিআইয়ের এক কর্মকর্তার বক্তব্য প্রকাশ করেছে। ওই কর্মকর্তা বলেছেন, “We all know the Bangladesh Bank heist, this is just one example of a state-sponsored attack that was done on the banking sector.”

তার এই বক্তব্যের সাথে রয়টার্স যোগ করেছে, “An official briefed on the probe told Reuters in Washington last week that the FBI believes North Korea was responsible for the heist. The official did not give details.”

এই দুই বক্তব্য যোগ করে রয়টার্স বুঝাতে চেয়েছে Lamont Siller 'state-sponsored' (রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা) বলতে উত্তর কোরিয়ার পৃষ্ঠপোষকতা বুঝিয়েছেন।

অবশ্য এর আগে এফবিআই কর্মকর্তারা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছিলেন চুরিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরের লোকজনও জড়িত থাকার প্রমাণ তারা পেয়েছেন। FBI Suspects Insider Involvement in $81 Million Bangladesh Bank Heist শিরোনামে ২০১৬ সালের ১০ মে’র প্রতিবেদনে বলা হয়-

“U.S. investigators suspect the theft by computer hackers of $81 million from Bangladesh’s central bank was partly an inside job—the first hint of culpability in a case that has exposed new vulnerabilities in the international banking system.

Agents with the Federal Bureau of Investigation have found evidence pointing to at least one bank employee acting as an accomplice, people familiar with the matter said. The evidence suggests a handful of others may also have assisted hackers in navigating Bangladesh Bank’s computer system, the people said.”

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিতে ব্যাংকের ভেতরের বা বাইরের কিম্বা বাংলাদেশের রাষ্ট্রের ভেতরের বা বাইরের কে বা কারা জড়িত তা এখনো কোনো তদন্তকারী সংস্থা বা ব্যক্তি চূড়ান্তভাবে বলেনি। তবে বিএনপি নেতা রুহুল কবীর রিজভী রয়টার্সের যে প্রতিবেদনের বরাতে ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা’ বলতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে ইঙ্গিত করলেও রয়টার্সের ইঙ্গিত ছিল উত্তর কোরিয়ার প্রতি।

Related Post