এই ছবির বইটি ‘পবিত্র কোরআন’ নয়,

20:04 PM সামাজিক মাধ্যম

বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বা দুর্ঘটনায় ভুয়া ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এখন নিয়মিত বিষয়। গত মঙ্গলবার আফগানিস্তানের কুনদুজ প্রদেশে একটি মাদ্রাসায় সরকারি বাহিনীর বিমান হামলার ঘটনার পরও বাংলাদেশে সামাজিক মাধ্যমে বেশ কিছু ভুল ছবি ছড়াচ্ছে। কেউ কেউ ভুল ছবি ছড়ানোর সাথে ধর্মীয় আবেগ যুক্ত করছেন।

আল জাজিরা জানাচ্ছে, কুন্দুজের ঘটনায় ৭০ থেকে ১০০ জন মারা গেছেন, যাদের একটি বড় অংশ মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশু। যদিও আফগান সরকার দাবি করছে হামলায় বেশিরভাগই তালিবান কমান্ডাররা মারা গেছে।

যেসব নিরীহ মানুষ মারা গেছে এই ঘটনায় তাদের প্রতি মৃত্যুই নৃশংস, ভয়ংকর এবং যারা হত্যা করেছে তারা অমার্জনীয় অপরাধ করেছে। এসব নৃশংসতাকে তুলে ধরার জন্য নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সঠিক ছবি ও তথ্যই যথেষ্ট। বিবেকবান মানুষ এতেই কেঁপে উঠবে। খুনিদের নৃশংসতা প্রকাশ করতে এমন ঘটনায় ভুয়া ছবি ব্যবহারের কোনোই প্রয়োজন নেই।

তালিবান ইস্যুতে সংবাদের জন্য আন্তর্জাতিক সূত্র হিসেবে আল জাজিরাকেই সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সংবাদমাধ্যম মনে করা হয়। উপরের যেসব ছবি কুন্দুজের মাদ্রাসার নৃশংস হামলার বলে প্রচার করা হচ্ছে সেগুলোর বেশিরভাগই আল জাজিরাসহ এশিয়া বা পশ্চিমের কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে ঘটনাস্থলের তেমন ছবি দেখা যায়নি কোথাও (তালিবান নিয়ন্ত্রিত ওই এলাকায় পেশাদার সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত)। বেশিরভাগ ছবিই হাসপাতালে নেয়া আহতদের। এমন ছবি আছে নিচের লিংকগুলোয়--

ভয়েস অব আমেরিকার লিংক

আরব নিউজের লিংক

আল জাজিরার লিংক

 

ফেসবুকে বৃহস্পতিবার Su Jon নামে একটি আইডি থেকে এ ধরনের ভুল কিছু ছবি তুলে ধরে মূল ছবির লিংকসহ একটি পোস্ট দেয়া হয়েছে। সেই পোস্টটি ছবিসহ হুবহু তুলে bdfactcheck.com এর পাঠকদের জন্য তুলে ধরছি। এ ক্ষেত্রে পোস্টের ভাষা ও মতামতগত ভুল/শুদ্ধির দায় পুরোপুরি স্ট্যাটাসদাতার।

//
ফেসবুকের হোমপেজে অনেকের শেয়ার দেওয়া কিছু ছবি ঘুরছিলো, আফগানিস্তানে আমেরিকার বোম্বিংয়ে ১০১ জন কোরানের হাফেজসহ ২৫০ জনের মৃত্যুর সংবাদসহ।


'১০১' এবং '২৫০'- এই দুটো সংখ্যা দেখে একটু চোখ আটকে যায়। সাধারণত এরকম ম্যাসিভ এটাকে অথেনটিক এবং ওয়েল নোউন নিউজপেপারের অনলাইন লিংক ফেসবুকেই পাওয়া যায়। খুঁজে না পেয়ে কিছুক্ষণ গুগল করেও অথেনটিক কিছুই পাচ্ছি না। তখন ভাবলাম, একটু ফ্যাক্ট চেক করি। নিউজ না পাওয়ায় গুগল ইমেজ সার্চ করলে সোর্স পাওয়া গেলো সহজেই। নিচে লিংকগুলো এড করছি-

প্রথম ছবি--

ISIS suicide bombing on Shia Cultural Central, Kabul. December, 2017

link 1:

Link 2:

Link 3:

 

দ্বিতীয় ছবি--

সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, THIS IS NOT EVEN A QURAN! সেটা ইহুদীদের একটি ধর্মগ্রন্থ। মিথ্যাচার কোথায় নিয়ে যেতে পারে মানুষকে!


Attack at a Jerusalem synagogue by two Palestinians with axe, November, 2014

Link 1:

Link 2:

 

তৃতীয় ছবি--

এটার কোনো অথেনটিক লিংক পাইনি। এটা একটা র‍্যান্ডম ছবি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সোর্স এটাকে ব্যবহার করেছে। তবে এটা সুনিশ্চিত এটা গত ১-২ দিন আগের ছবি না।

শেষ কথায় আসি। যে সোর্স থেকে ছবিগুলো নিউজ আকারে ছড়াচ্ছিলো, সেটা অলরেডি দেড় হাজারের উপরে শেয়ার হয়ে গেছে। মানে দেড় হাজার মানুষ, আর তাঁদের বন্ধুতালিকার অধিকাংশের কাছে ছবিগুলো এখন গতকালের/পরশুর ম্যাসাকারের ছবি হিসেবে সত্য ভেবে নিচ্ছে।

আপাতত ছবিগুলো মিথ্যা, এটা প্রমাণিত। কেউ আমাকে দয়া করে এমন কোনো লিংক দিন, যেটাতে ঘটনার সত্য-মিথ্যা জানা যায়।
ধন্যবাদ!

আপডেটঃ
তালিবান উপস্থিতি সন্দেহে আফগান মিলিটারি একটি রিলিজিয়াস গ্যাদারিংয়ে হেলিকপ্টার বোম্বিং করে। যেখানে প্রায় ৭০ জন নিহতের ঘটনা ঘটে। তবে যে ফেসবুক পোস্টটি নিয়ে আলোচনা, সেই সূত্র ধরে বলতে হচ্ছে, বোম্বিংয়ের ঘটনাকে রিলিজিয়াস দিকে ডাইভার্ট করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আর যে ১০১ জন কোরানের হাফেজসহ ২৫০ জন নিহতের তথ্য দেওয়া হয়েছিল, সেটাও ভুল। হামলা আমেরিকান মিলিটারি নয়, সরাসরি আফগান কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিচালিত হয়েছিলো। এর পেছনে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার কি ভূমিকা ছিলো, সেটা ভিন্ন বিতর্কের বিষয়।

ধন্যবাদ আবারো।

খবরের লিংকঃ

//

Su Jan এর দেয়া দ্বিতীয় ছবিটি যে কুরআনের ছবি নয় তা নিশ্চিত হতে নিচের স্ক্রিনশট খেয়াল করুন। এখানে হিব্রু ভাষার বর্ণমালা স্পষ্ট-

Su Jan এর তৃতীয় ছবিটি ফেসবুক ও টুইটারে বিভিন্ন আইডি থেকে পোস্ট করা হলেও bdfactcheck এর পক্ষ থেকে সার্চ করে কুন্দুজের সাথে ছবিটির কোনো সংযোগ নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র থেকে পাওয়া যায়নি।

নোট:

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করছি যে, কুন্দুজের মাদ্রাসায় সরকারি বাহিনীর চালানো সেদিনের হত্যাযজ্ঞে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল তাতে শত-সহস্র নৃশংস ছবি/ভিডিও উঠানো সম্ভব ছিল- এটা নিশ্চিভাবেই বলা যায়। উপরে যেসব ভুয়া ছবি ছড়ানো হচ্ছে তার চেয়েও বহুগুণে নৃশংস ছিল সেদিনের ঘটনা। কিন্তু যেকোনো কারণেই হোক স্বীকৃত কোনো সংবাদমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির মাধ্যমে সেদিনকার খুব বেশি ছবি প্রকাশিত হয়নি। যেহেতু প্রকাশিত হয়নি, ফলে এক ঘটনার ছবি/ভিডিওকে (এবং হামলাকারীর ভুল তথ্য) অন্য ঘটনার বলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ালে এবং পরে তা সাধারণ মানুষের কাছে ধরা পড়লে প্রকৃত ঘটনা নিয়েই মানুষের মধ্যে সন্দেহ/বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এটা মূলত নৃশংসতার শিকার মানুষের প্রতি এক ধরনের অসম্মান। ফলে নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত না হয়ে ছবি/ভিডিও বা তথ্য প্রচার করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

Related Post