ঢাকা সেনানিবাসে কি আজান নিষিদ্ধ?

18:05 PM সামাজিক মাধ্যম

ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদক:

গত কয়েক দিন ধরে কিছু অখ্যাত অনলাইন পোর্টালের বরাতে সামাজিক মাধ্যমে একটি 'খবর' ব্যাপকভাবে ছড়াচ্ছে। প্রায় সব খানে দেখা যাচ্ছে শিরোনাম প্রতিবেদনটির শিরোনাম, "এবার ঢাকা সেনানিবাসে আজান নিষিদ্ধ"।

ইন্ট্রোতে বলা হয়েছে, ‍"গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা সেনানিবাসের কোনো মসজিদ থেকে মাগরিবের আজান শোনা যায়নি। এতে করে এলাকাবাসী অনেকেই ইফতারের সময় দুঃচিন্তায় পড়ে যায়।

এই ঘটনায় খোজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইফতার উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে আসেন সন্ধ্যায়। এই উপলক্ষে সেনানিবাসের সমল মসজিদের মাইকে মাগরিবের আজান দেয়া নিষিদ্ধ করে ক্যান্টনমেন্ট কতৃপক্ষ।"

গত ৫ মে থেকে ছড়ানো 'খবরে' বলা হচ্ছে, ইফতার অনুষ্ঠানের কথা; যেখানে প্রধানমন্ত্রীও গিয়েছেন। অথচ, চলতি বছর রমজান মাস শুরু হতে এখন দুই সপ্তাহ বাকি!

৫ মে (কিছু ক্ষেত্রে ৬ মে) বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের ফেসবুক পেইজ ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের কয়েকজনের পোস্টের স্ক্রিনশট ও তারিখ দেখুন--


bdfactcheck.com এর পক্ষ থেকে ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, খবরটি ৫ মে থেকে নতুন করে ছড়ালেও এটির উদ্ভব আরও আগে। ২০১৬ সালের ১৬ জুন বৃহস্পতিবারও একাধিক অখ্যাত পোর্টালে কথিত খবরটি প্রকাশিত হয়েছিল। তখনকার দুটি লিংক দেখুন-- একদুই

স্ক্রিনশট দেখুন--



দুই বছর আগের  রমজানের মাসের এক ইফতারের সময় সেনানিবাসে আসলে কী ঘটেছিলো তা তথ্যপ্রমাণ সহকারে উপস্থাপন করা খুবই দুরুহ। তবে নিচের কয়েকটি পয়েন্ট আমলে নিলে এটির সত্য/মিথ্যা সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া যাবে--

প্রথমত, যেসব পোর্টাল এই খবর দিচ্ছে সেগুলো মোটেও নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম হিসেবে পরিচিত নয়। উল্টো এগুলোতে নিয়মিতভাবে ভুয়া, গুজবভিত্তিক, এবং চটকদার সংবাদ পরিবেশন হয়ে আসছে; bdfactcheck.com আগে একাধিকবার এসব পোর্টালের ভুয়া সংবাদ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

দ্বিতীয়ত, আলোচ্য সংবাদের শিরোনাম এবং ভেতরের তথ্যের মধ্যেই ফারাক আছে। শিরোনাম মনে হচ্ছে, 'এখন আর সেনানিবাসে আজান দেয়া হয় না'। কিন্তু ভেতরে বলা হয়েছে, শুধু ওই নির্দিষ্ট দিন মাগরিবের আযান 'শোনা যায়নি'। কোথা থেকে শোনা যায়নি, কে শোনেনি- এসব কোনো প্রশ্নের উত্তর নেই। এমনও হতে পারে ওই সময়টিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ওই এলাকার মসজিদগুলোতে মাইকে আযান না দিতে পারায় এলাকার লোকজন তা শুনতে পাননি! অথবা, কোনো কারণে শুধু মাইকে আজান (এবং আওয়াজও) না দেয়ার জন্যও বলা হয়ে থাকতে পারে।

তৃতীয়ত, সব পোর্টালের প্রতিবেদনই হুবহু কপি হলেও কে কার কাছ থেকে কপি করেছে তার উল্লেখ নেই। আবার নিজেদের কোনো সূত্রের নির্দিষ্ট কোনো পরিচয়ও নেই। স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশ করতে হলে যতটুকু নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত থাকা প্রয়োজন তার কিছুই নেই। পুরোটাই 'গল্প নির্ভর'।

সার্বিক বিবেচনায় এটা বলা যায়, 'ঢাকা সেনানিবাসে আজান নিষিদ্ধ' এই দাবিটি আজগুবি।

Related Post